রেয়াত করা হবে না শহুরে নকশালদের, বরদাস্ত করা হবে না সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, সংসদে বললেন অমিত শাহ

শুধুমাত্র আর কোনও সংগঠন নয়, এখন থেকে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বা তাদের সাহায্যকারী কোনও ব্যক্তিকেও সন্ত্রাসবাদী বলে আখ্যা দিতে পারবে কেন্দ্র। এতদিন পর্যন্ত ইউএপিএ আইনে শুধুমাত্র কোনও সংগঠনকেই সন্ত্রাসবাদী বা জঙ্গি বলে তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা চালু করা যেত। এবার থেকে ব্যক্তির বিরুদ্ধেও তা প্রয়োগ করা যাবে। বুধবার লোকসভায় এই মর্মেই সংশোধনী এনে পাশ হল বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএ বিল।
এই বিলের একটি ধারা অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যক্তি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে বা ইন্ধন যোগানোয় যুক্ত থাকে, সরাসরি কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে যুক্ত না থাকলেও তাঁকে গ্রেফতার করে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণার অধিকার রয়েছে সরকারের। সংশোধনী বিলে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনে দেশের যে কোনও মানুষের বাড়িতে তল্লাশি চালানো ও তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার অধিকার থাকবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) হাতে। এর জন্য রাজ্যের পুলিশের অনুমতির কোনও প্রয়োজন হবে না। যা নিয়ে বুধবার সংসদে প্রবল আপত্তি তোলে বিরোধীরা। এই আইনকে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের মতে, এর ফলে সহজেই কাউকে সন্ত্রাসবাদী তকমা দিয়ে গ্রেফতার করার অধিকার পেয়ে যাবে সরকার। সরকারের বিরোধিতা করলে সহজেই কাউকে দেশদ্রোহী বলে দগিয়ে দেওয়া যাবে। ইউএপিএ সংশোধনী বিলের এই ধারাটি অপব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিরোধী সাংসদরা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যুক্তি দেন, ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের মতো সংগঠনকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষণার পরেও আইন না থাকায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ইয়াসিন ভাটকলকে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করা যায়নি। সেই সুযোগ নিয়ে ভাটকল ১২ টি হামলা চালিয়েছিল দেশে। তিনি বলেন, আমেরিকা, চিন, ইজরায়েল বা পাকিস্তানে এই আইন রয়েছে। এই সংশোধনী আইন সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ঠেকাতে অনেকাংশে কার্যকর হবে। কিন্তু শুধুমাত্র সন্দেহের বশে যদি কোনও সাধারণ মানুষকেও গ্রেফতার করা হয় তখন কী হবে, বিরোধীদের এই প্রশ্নের কোনও উত্তর দেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর প্রতিবাদে অধিকাংশ বিরোধী সাংসদ কক্ষ থেকে ওয়াক আউট করেন। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। রেয়াত করা হবে না শহুরে নকশালদের।
তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, এই সংশোধনী আইনের ফলে সরকারের বিরোধিতা করলেই সন্ত্রাসবাদী বলা যাবে। তিনি বলেন, জাতীয় সুরক্ষা বা অন্য যে কোনও বিষয়ে সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু এবার থেকে সরকারের সঙ্গে সুর না মেলালেই কাউকে দেশদ্রোহী হিসেবে সহজে দেগে দেওয়া যাবে।

Comments
Loading...