অসহিষ্ণুতা, গণপিটুনি এবং জয় শ্রীরাম ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দিয়েছিলেন। তারপর কখনও বাংলার বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ আবার কখনও আরএসএসের মুখপত্র অর্গানাইজার, অপর্ণা সেনদের তীব্র আক্রমণ করা হয়েছে। কিন্তু বুধবার কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে বিস্ফোরক ট্যুইট করে যেন নিজের পুরনো অবস্থানই আরও স্পষ্ট করলেন অপর্ণা সেন।
বুধবার সকাল ১০ টা নাগাদ অপর্ণা সেন নিজের নামাঙ্কিত ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে একটি ট্যুইট করেন। তাতে তিনি লেখেন, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর ১৯৮৯-৯০ সালে অনেক অত্যাচার হয়েছে। তাঁরা যে বাড়ি ফিরতে পারছেন, সেটা শুনে ভালো লাগছে। আশা করব, তাঁরা বাড়ি ফিরলেও, প্রতিশোধ নেওয়ার ব্যাপারটা আর ফিরবে না। শান্তি বিরাজ করবে কিনা তা সময় বলবে। কিন্তু এই অগণতান্ত্রিক বিভাজনের পর কাশ্মীর কি আদৌ কাশ্মীর থাকবে?

আরও পড়ুন: স্বপ্ন ছুঁয়ে বিমান ওড়াবেন প্রত্যন্ত মালকানগিরির অনুপ্রিয়া, উত্তরণের এক অনন্য নজির
অপর্ণা সেনের সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পাঠানো খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন চিত্র পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপও। মঙ্গলবার নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে শওক বাহারাইচের একটি কবিতা তিনি ট্যুইট করেছেন। যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কবিতাটির মূল কথা হল, একটি সাজানো বাগান নষ্ট করার জন্য একটি উল্লুকই যথেষ্ট, এখানে তো গাছে গাছে উল্লুক, বাগান বাঁচাবে কী করে?

লোকসভা ভোট এবং পরবর্তী সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি সমালোচনা করেছেন বলিউডের অভিনেতা স্বরা ভাস্কর। কাশ্মীর ইস্যুতেও অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। অনুরাগ কাশ্যপের পোস্ট করা শওক বাহারাইচের কবিতাটি, তিনিও রিট্যুইট করেছেন। পাশাপাশি কাশ্মীরে বিপদের মধ্যে পড়া মানুষজনকে সাহায্য করতে চেয়ে দেওয়া বিভিন্ন পোস্ট তিনি রিট্যুইট করেছেন। তবে নিজে কিছু লেখেননি বা কোনও বিবৃতি দেননি।
আরও পড়ুন: সুখবর! করোনা মোকাবিলায় ভ্যাকসিন অক্সফোর্ডের গবেষকদের, ৫০০ মানুষের ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ
কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন একদা জেএনইউয়ের ছাত্র নেত্রী এবং কাশ্মীরের বাসিন্দা শেহলা রশিদ। প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতার পাশাপাশি দ্রুত জেলবন্দি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সহ প্রত্যেককে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শেহলা রশিদ। যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম বন্ধ থাকার ফলে অত্যন্ত বিপদের মধ্যে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন কাশ্মীরিরা। ফেসবুক ও ট্যুইটারে পোস্ট করা ভিডিও বার্তায় জেএনইউর প্রাক্তন ছাত্র নেত্রী শেহলার আবেদন, দ্রুত উপত্যকায় খুলে দেওয়া হোক যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম। ৭ ই অগাস্ট, বুধবার দিল্লির মান্ডি হাউজ থেকে যন্তর মন্তর পর্যন্ত মিছিলে, সম মনোভাবাপন্নদের আসার আবেদন জানিয়ে ভিডিওটি পোস্ট করেছেন শেহলা। মিছিলের অন্যতম উদ্যোক্তাদের মধ্যে আছেন শেহলা রশিদও।