কর্ণাটকের পর এবার রাজস্থান। মরু রাজ্যে লোকসভা ভোটে বিপুল জয় পাওয়া বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়ল জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির ভোটে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন গেল কংগ্রেসের দখলে। পঞ্চায়েতে কংগ্রেসের দুরন্ত সাফল্যের পর ফের একবার প্রশ্ন উঠল লোকসভা ভোটের ফল নিয়ে।
আরও পড়ুন: ফের কংগ্রেসে ভাঙন, মমতার উপস্থিতিতে প্রিয়াঙ্কা ঘনিষ্ঠ সহ দুই নেতা যোগ দিলেন তৃণমূলে
গত ডিসেম্বরে বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে রাজস্থানে ক্ষমতা দখল করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু ৬ মাসের ব্যবধানে লোকসভা ভোটে বিজেপির কাছে সম্পূর্ণ পর্যুদস্ত হয়ে রাজ্যের ২৫ টি আসনে খাতাই খুলতে পারেনি তারা। লোকসভার ফলাফলের মাত্র দেড় মাসের মধ্যে রাজস্থানের পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের ভোটে একাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল কংগ্রেস।
গত ৩০ শে জুন রাজস্থানের ৩৩ জেলার ২৬ টিতে পঞ্চায়েত ভোট হয়। মঙ্গলবার ভোটের ফলাফলে দেখা যায় ৭৪ টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে ৩৯ টি দখল করেছে কংগ্রেস, মাত্র ২৯ টি আসন পেয়েছে বিজেপি। নির্দল প্রার্থীরা জিতেছে বাকি ৬ টি আসন। রাজস্থানের কংগ্রেস নেতাদের দাবি, জয়ী নির্দল প্রার্থীরা সবাই কংগ্রেস সমর্থিত। পাশাপাশি, জেলা পরিষদের ভোটে ৯ টির মধ্যে ৭ টিতে জয়লাভ করেছে কংগ্রেস, বিজেপি পেয়েছে ১ টি মাত্র জেলা পরিষদ আর ১ টি আসনে জিতেছেন নির্দল প্রার্থী।
কয়েকমাস আগে একই ঘটনা ঘটেছিল কর্ণাটকে। ২৩ শে মে লোকসভার ফলে দেখা যায় কর্ণাটকের ২৮ টি আসনের ২৫ টিতে জয়লাভ করেছে বিজেপি। কিন্তু তার এক সপ্তাহের মধ্যে, গত ২৯ শে মে, কর্ণাটকের পুরসভা নির্বাচনের ফলে দেখা যায়, মোট ১৩০০ পুর আসনের মধ্যে কংগ্রেস একাই জিতেছে ৫০৯ টি। মাত্র ৩৬৬ টি আসনেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় লোকসভায় দুর্দান্ত ফল করা বিজেপিকে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই নির্বাচনী ফলাফলে এমন তারতম্যে বিজেপির বিরুদ্ধে লোকসভা ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনেছিল কর্ণাটকের প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। তবে রাজস্থানের পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের ভোটে জিতে কংগ্রেস এমন কোনও অভিযোগ না করলেও, উপমুখ্যমন্ত্রী তথা রাজস্থানের প্রদেশ সভাপতি সচিন পাইলট বলেন, ভোটের ফলাফল থেকে পরিষ্কার, রাজস্থানের মানুষ কংগ্রেস সরকারের শাসনে সন্তুষ্ট ও আস্থাশীল। লোকসভা ভোটে ভরাডুবির পর পঞ্চায়েত ভোটের এই ফলাফল কংগ্রেস কর্মী, সমর্থকদের নতুন করে উৎসাহ জোগাবে বলে মনে করছেন রাজস্থানের কংগ্রেস নেতারা।