কোচবিহার বিমানবন্দরের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ

লোকসভা ভোটের প্রচারে বেরিয়ে কোচবিহারে বিমানবন্দর চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তৃণমূলত্যাগী বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক। ভোটে জিতে এখন তিনি সাংসদ। কিন্তু তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা হল না। কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে কোনও উড়ান না থাকায় তার লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করল খোদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (এএআই)। ডিরেক্টরেট অফ সিভিল এভিয়েশনকে পাঠানো চিঠিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে বিমানবন্দর থেকে কোনও উড়ানই নেই তার লাইসেন্স রাখতে প্রতি বছর বিপুল টাকা খরচ হচ্ছে। অপচয় কমাতে এই লাইসেন্স বাতিলের আবেদন বলে জানিয়েছে তারা।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, কোচবিহারের ১,২০০ মিটার রানওয়েতে সর্বোচ্চ ২০ আসন বিশিষ্ট বিমান নামা-ওঠা করতে পারে। কিন্তু এ দেশের কোনও সংস্থাই এই স্বল্প আসন বিশিষ্ট বিমান নিয়মিতভাবে চালায় না। তাই বিপুল টাকা খরচ করে লাইসেন্স টিকিয়ে রাখার কোনও মানে হয় না বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই কারণেই বিমানবন্দরের লাইসেন্স বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিষেবার উদ্যোগ শুরু হয়েছিল বাম আমলে। ২০০৫ সালে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী ২০০৯ সালে লাইসেন্স পায় এই বিমানবন্দর। এরপর রাজনৈতিক পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগে ২০১১ সালে বিমান চলাচল শুরু হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে লোকসভা ভোটের প্রচারে নেমে বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক ঘোষণা করেন, অগাস্ট মাস থেকে কোচবিহার বিমানবন্দরে নিয়মিতভাবে বিমান চলাচল শুরু হবে।
কিন্তু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফেই লাইসেন্স বাতিলের প্রস্তাব দেওয়ায় বিশবাঁও জলে বিজেপি সাংসদের প্রতিশ্রুতি। তবে নিশীথ প্রামাণিকের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণেই এই সমস্যা তৈরি হল। অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্রের সহযোগিতা না পাওয়ায় নিয়মিতভাবে কোচবিহার বিমানবন্দর চালু করা যায়নি।

 

Comments
Loading...