দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: স্নাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষা বা পিজিইটি (PGET) পরীক্ষা বাতিল ঘিরে দেশজুড়ে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে হঠাৎ এই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সরব হয়েছে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র সংগঠন। তাদের দাবি, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ায় পড়ুয়াদের কেরিয়ারের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে।
কেন বাতিল করা হলো পরীক্ষা? কেন্দ্রীয় সরকারের সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা পরিচালনার প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু কারিগরি ত্রুটির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, পরীক্ষার মাত্র কয়েকদিন আগে এই ঘোষণা আসায় তাদের মানসিক চাপের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে পরীক্ষার জন্য কেন্দ্র নির্বাচন করা হাজার হাজার পড়ুয়া এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
বিরোধীদের আক্রমণ ও প্রতিবাদের সুর এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিরোধীরা। চিকিৎসকদের সংগঠন এবং বিরোধী দলের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন যে, জাতীয় স্তরের পরীক্ষা কেন বারবার এরকম অব্যবস্থার সম্মুখীন হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য মহল থেকে শুরু করে জাতীয় স্তরের চিকিৎসক সংগঠনগুলিও এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছে। তাদের দাবি, পরীক্ষা পরিচালনার পরিকাঠামো গত কয়েক বছরে চরম অবহেলার শিকার হয়েছে। অবিলম্বে নতুন তারিখ ঘোষণা এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন তারা।
আরও পড়ুন: বইমেলায় জেআইএস-এর স্টল প্রথম থেকেই জমজমাট
পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও পরবর্তী পদক্ষেপ বর্তমানে পিজিইটি পরীক্ষার্থীদের নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকে। অনেকে মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আইনি লড়াইয়ে নামতে পারেন পড়ুয়ারা। স্বাস্থ্য মন্ত্রক শীঘ্রই এই বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ডাক দিতে পারে বলে খবর। নতুন পরীক্ষার তারিখ কবে ঘোষণা করা হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। পরীক্ষার্থীদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও চলছে বিস্তর আলোচনা।




