দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণির পড়ুয়াদের পড়াশোনায় আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো শিক্ষাশ্রী স্কলারশিপ। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের জন্য চালু এই প্রকল্পের মাধ্যমে পড়াশোনার খরচ মেটানো এবং স্কুলছুট কমানোই মূল লক্ষ্য। সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন করলে এই প্রকল্পের সুবিধা সহজেই পাওয়া সম্ভব।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও সুবিধা রাজ্যের তপশিলি জাতি (SC) ও তপশিলি উপজাতি (ST) সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। মূলত পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ারা তাদের শিক্ষাগত প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক অনুদান পায়। এই অর্থ পড়ুয়াদের পোশাক, বইপত্র বা স্কুল সামগ্রী কেনার কাজে ব্যবহৃত হয়, যা তাদের পরিবারকে আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি দেয়।
যোগ্যতামান ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র শিক্ষাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য পড়ুয়াকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বীকৃত কোনো স্কুলের পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র বা ছাত্রী হতে হবে। পাশাপাশি, আবেদনকারীকে অবশ্যই তপশিলি জাতি বা তপশিলি উপজাতিভুক্ত হতে হবে। আবেদনের সময় পড়ুয়াদের নিজস্ব বা অভিভাবকের আধার কার্ড, জাত শংসাপত্র (Caste Certificate), স্কুলের বৈধ পরিচয়পত্র এবং ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রতিলিপি জমা দিতে হয়।
আরও পড়ুন: চাকরী করতে করতেই ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন; সুযোগ দিচ্ছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
H3: আবেদনের প্রক্রিয়া প্রকল্পের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াটি মূলত স্কুল ভিত্তিক। পড়ুয়াদের স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করে তা সংশ্লিষ্ট স্কুলে জমা দিতে হবে। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ তথ্য যাচাই করে তা সরকারি পোর্টালে আপলোড করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে এবং দ্রুত পরিষেবা প্রদানের জন্য রাজ্য সরকার এই ডিজিটাল ব্যবস্থা কার্যকর করেছে।
কেন এই স্কলারশিপ গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে স্কুল পর্যায় থেকে পড়ুয়াদের ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তা পড়ুয়াদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বজায় রাখতে সাহায্য করছে। গত কয়েক বছরে লক্ষাধিক পড়ুয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে, যা সামগ্রিক সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। অভিভাবকরাও এই প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের সন্তানদের শিক্ষার পথে এগিয়ে রাখার বাড়তি উৎসাহ পাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ২১’এর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে সিলেবাসের ৩৫ শতাংশ বাদ, ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর




