দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: প্রতিকূলতা যে সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না, তা আবারও প্রমাণ করলেন বজরং প্রসাদ। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির মাঝপথেই হারালেন বাবাকে। ভেঙে না পড়ে বরং সেই শোককেই শক্তিতে রূপান্তরিত করে শেষ পর্যন্ত আইপিএস অফিসার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন তিনি। তার এই লড়াই এখন হাজারো পরীক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।
প্রস্তুতিপর্বে আচমকা বিপর্যয় বজরং প্রসাদ যখন ইউপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই নেমে আসে বিপর্যয়। এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার বাবার মৃত্যু হয়। পরিবারের প্রধান অভিভাবককে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। আর্থিক অনটনের পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণাও ছিল তুঙ্গে। আত্মীয়-স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে সেই সময় হাল ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিলেও, বজরং অটল ছিলেন নিজের লক্ষ্যে।
লক্ষ্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রম বাবার স্বপ্ন পূরণ করাই তখন তার একমাত্র লক্ষ্য। পড়াশোনার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ বজায় রাখার জন্য তিনি নিজেকে কঠোর নিয়মের মধ্যে বেঁধে ফেলেন। প্রতিদিন দীর্ঘক্ষণ অধ্যবসায়, সঠিক রুটিন মেনে চলা এবং মক টেস্টের মাধ্যমে নিজের ভুলগুলো শুধরে নেওয়া ছিল তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য জেদ নিয়ে বারবার পরীক্ষায় বসে শেষ পর্যন্ত তিনি কাঙ্ক্ষিত সাফল্যে পৌঁছান।
অনুপ্রেরণার নতুন নাম বজরং আইপিএস হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর বজরংয়ের এই কাহিনী সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ ঘর থেকে উঠে এসে কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করে সফল হতে হয়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনি। সিভিল সার্ভিস প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে তিনি বার্তা দিয়েছেন, পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, ধৈর্য এবং নিষ্ঠা বজায় রাখলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
বজরংয়ের এই আইপিএস হওয়ার সফর শুধু একটি পরীক্ষার সাফল্য নয়, বরং এক মানবিক লড়াইয়ের জয়। তার এই অদম্য মানসিকতা আজ বহু তরুণের স্বপ্নপূরণের পথে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: বাতিল একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা, নিজের স্কুলেই উচ্চমাধ্যমিক, বিজ্ঞপ্তি সংসদের




