রাজ্যজুড়ে অশান্তি, হানাহানিঃ তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস, চার দলকে বৃহস্পতিবার বৈঠকে ডাকলেন রাজ্যপাল

রাজ্যে ৩৫৬ ধারা জারি করা হবে কিনা এই জল্পনার মাঝেই প্রধান চার রাজনৈতিক দলকে বৈঠকে ডাকলেন রাজ্যপাল।
রাজ্যে লোকসভা ভোট পরবর্তী লাগাতার অশান্তির আবহে এবার হস্তক্ষেপ করলেন কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। রাজ্যের চার প্রধান রাজনৈতিক দলকেই বৃহস্পতিবার বৈঠকে ডাকলেন তিনি। সূত্রের খবর, তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস এবং সিপিএমকে বৈঠকে ডেকেছেন রাজ্যপাল। রাজ্যপালের উদ্যোগে এই ধরনের সর্বদলীয় বৈঠক কার্যত নজিরবিহীন।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টের সময় এই প্রধান চার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে রাজ্যপাল বৈঠক করবেন বলে জানা গিয়েছে।
লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত গোটা রাজ্য। বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল এবং খুনের ঘটনা শুরু হয়ে যায় ২৩ শে মে বিকেলের পর থেকেই। এখনও পর্যন্ত রাজনৈতিক সংঘর্ষে রাজ্যে ১০ জনের মৃত্যুর ব্যাপারে সরকারি সত্যতা মিলেছে। বিজেপি তৃণমূল, দু’দলেরই অভিযোগ, সন্দেশখালিতে তাদের কয়েকজন কর্মী এখনও নিখোঁজ। কোচবিহার, বারাকপুর, বর্ধমান, মেদিনীপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে। তবে সবচেয়ে উত্তপ্ত পরিবেশ, পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের সন্দেশখালিতে। সেখানে গত সপ্তাহে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে ৩ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরই রাজ্যপাল দিল্লি যান এবং প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলা নিয়ে রিপোর্ট দেন। তারপরই রাজ্যে ৩৫৬ ধারা জারি করা হবে কিনা তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। সন্দেশখালি ঘটনার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্যে অ্যাডভাইসারি পাঠায় এবং অশান্তি, হানাহানি বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলে।
রাজভবন সূত্রে খবর, তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রকে বৃহস্পতিবার ডেকে পাঠিয়েছেন কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। সূত্রের খবর, রাজ্যপাল প্রথমে ঠিক করেছিলেন, অশান্ত বন্ধে রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দলকে নিয়ে মিটিং করবেন। পরে ঠিক হয়, শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ চার দলকেই বৈঠকে ডাকা হবে এবং কোন দলের পক্ষ থেকে কে হাজির থাকবেন বৈঠকে তাও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে রাজভবনের পক্ষ থেকে।

Comments are closed.