কলকাতা পুলিশ, স্বাস্থ্য দফতর, এনজিওর তৎপরতায় প্রাণ বাঁচল ৭৩ জন করোনা রুগীর

রাত ৯.২০, কলকাতার নগরপাল সৌমেন মিত্রের কাছে গড়িয়ার এক বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ফোন আসে, অক্সিজেনের ভীষণ দরকার না হলে রুগীদের বাঁচানো যাবে না।

ফোন যায় স্বাস্থ্য আধিকারিক কাছেও। জনৈক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কথায়, হাসপাতাল থেকে যে ডাক্তার ফোন করেছিলেন অক্সিজেনের জন্য, তিনি অসহায় হয়ে প্রায় কেঁদে ফেলেছিলেন।

পুলিশ কমিশনার, ওই স্বাস্থ্য আধিকারিক ফোন পাওয়া মাত্রই অক্সিজেন যোগানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ করেন। কলকাতা পুলিশ, স্বাস্থ্য দফতর, এবং এনজিওর তৎপরতায় ৭২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার জোগাড় হয় ২ ঘন্টার মধ্যে। ৭৩ জন রুগী প্রাণে বাঁচেন।

কমিশনার সৌমেন মিত্র ফোন পাওয়া মাত্রই, কলকাতা পুলিশের ওয়েলফেয়ার সেলে জানান বিষয়টি। ওয়েলফেয়ার সেলের একটি দল শহরের সমস্ত অক্সিজেন সাপ্লায়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। অবশেষে ৯ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার জোগাড় করতে পারেন তাঁরা।

অন্যদিকে বারুইপুরের এসডিও অক্সিজেন উৎপাদনকারী সংস্থা গুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে ৪০ টি বি টাইপ সিলিন্ডারের বন্দোবস্ত করেন। স্বাস্থ্য দফতরের তৎপরতায় ১৩ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার বারুইপুর হাসপাতাল থেকে এবং ১০ টি এম আর বাঙুর হাসপাতাল থেকে পৌঁছায় গড়িয়ার ওই বেসরকারি হাসপাতালে। অক্সিজেনের অভাবে ছটফট করতে থাকা ৭৩ জন রুগী পুনরায় প্রাণ ফিরে পান।

ডাক্তাররা জানাচ্ছেন, অক্সিজেন পৌঁছাতে আর সামান্য দেরি হলেই ওই ৭৩ জন রুগীকে বাঁচানো যেত না। দিল্লি, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশে অক্সিজেনের অভাবে যে রুগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, স্বাস্থ্য আধিকারিক, কলকাতা পুলিশ এবং এনজিও গুলির তৎপরতায় রুগী মৃত্যুর ঘটনার পুনরাবৃত্তি থেকে রক্ষা পায় শহর কলকাতা।

গড়িয়ার ওই বেসরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, হাওড়ার ডোমজুড় থেকে হাসপাতালে অক্সিজেনে আসার কথা ছিল, কিন্তু ওই রিফিলিং সেন্টারে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। যার জেরে সময়মত সিলিন্ডার এসে পৌঁছায়নি। অবশেষে ভোর ৩.৩০ নাগাদ ডোমজুরের রিফিলিং সেন্টার থেকে ওই হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার এসে পৌঁছায়।