তিনি বাদশা। আটের দশকের শুরু থেকে মাঝামাঝি গোটা ভারতীয় ফুটবলকে শাসন করেছেন তিনি। তখন যাঁরা তাঁর খেলা দেখেছেন, তাঁদের চোখে সেরা বিদেশি ফুটবলারের নাম মজিদ বাসকার। সাড়ে তিন দশক পর কলকাতায় ফিরেছেন মজিদ। আর তাঁকে নিয়ে আবেগে ফুটছেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করতে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে এসেছিলেন মজিদ বাসকার। তাঁকে দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রায় শ’পাঁচেক ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। শেষ পর্যন্ত ময়দান থানার পুলিশ ডাকতে হয় তাঁদের। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে মজিদ বলেন, ‘কলকাতা আমার কাছে সব সময় স্পেশাল। কলকাতায় ফিরতে পেরে দারুণ লাগছে। ইস্টবেঙ্গলের প্রস্তাব যখন প্রথম পেয়েছিলাম, কলকাতায় ফেরার বিষয়ে দ্বিধা ছিল। শেষ পর্যন্ত দ্বিধা কাটিয়ে আমি এলাম।’ এত বছর পর তাঁকে ঘিরে উন্মাদনা দেখে অবাক মজিদ নিজেও। তাঁর সময়ে সেরা ডিফেন্ডার কে? না ভেবেই মজিদ বললেন, ‘সুব্রত ভট্টাচার্য।’ সহ খেলোয়াড়দের মধ্যে মনে আছে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, মহম্মদ হাবিব, সুধীর কর্মকারকে। ১৯৮০ সালে মহামেডান স্পোর্টিং এর বিরুদ্ধে করা গোলই তাঁর কাছে সেরা।
বহুদিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। মজিদ বাসকার জানালেন, ‘ইরানে যাওয়ার পর সমস্যার মধ্যে ছিলাম। তাই যোগাযোগ করা যায়নি। তবে ভারতীয় ফুটবলের অল্প বিস্তর খবর রাখতাম।’
১৬ ই অগাস্ট, কলকাতা ফুটবলের কালো দিন। ১৯৮০ সালের ওই দিনে ইডেন গার্ডেন্সে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে ছিলেন দুই দলের সমর্থকরা। মারা গিয়েছিলেন ১৬ জন। সেই দিনটা এখনও মনে রেখেছেন মজিদ। ‘আমরা যখন খেলছিলাম তখন কিছু বুঝতে পারিনি। তারপর লর্ড সিনহা রোডের মেসে যখন ফিরি, কাছের হাসপাতালে (পিজি) কয়েকজন ইস্টবেঙ্গল সমর্থককে দেখতে পাই। তাঁরাই আমাকে বলেন, সংঘর্ষে বেশ কিছু মানুষ মারা গেছেন। ভীষণ মন খারাপ হয়ে গেছিল। আজও সেই দিনটা আমার মনে আছে।’
Sign in
Sign in
Recover your password.
A password will be e-mailed to you.
Comments are closed.