দুর্গা পুজো কমিটিগুলোর কাছ থেকে কেন আদায় করা হচ্ছে আয়কর, ফের প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গা পুজো কমিটিকে আয়করের আওতার বাইরে রাখার দাবি জানিয়ে এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, পুজোয় আবার আয়কর কী? পুজো চাঁদা তুলে বা বিজ্ঞাপন নিয়ে হয়। এটা কোনও বাণিজ্যিক কাজ নয়, সামাজিক কাজ।’ সেই সঙ্গে বিজেপিকে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেত্রীর মন্তব্য, ভোটের আগে হিন্দু-মুসলমান করে,আর দুর্গা পুজো কমিটিগুলোর কাছ থেকে আয়কর নেওয়ার দাবি জানায়।
সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষকে আনন্দ দেয় পুজো। আর বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো । মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এটা কোনও বাণিজ্যিক কাজ নয়, সামাজিক ও ধর্মীয় কাজ। তাই দুর্গা পুজো কমিটিগুলির কাছে আয়কর চাওয়া একেবারেই উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল নেত্রী।
গত বছর দুর্গা পুজোর সময় রাজ্য সরকারের তরফে প্রত্যেক পুজো কমিটিকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় এই ঘটনার প্রবল সমালোচনা করেছিল রাজ্য বিজেপি। এমনকী পুজো কমিটিগুলিকে ডেকে পাঠায় আয়কর দফতর। পুজোর আয়-ব্যয় নিয়ে হিসেব চাওয়া হয়।
অন্যদিকে, লোকসভা ভোটের প্রচারের সময় বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় স্তরের নেতা-মন্ত্রী বাংলায় দুর্গাপুজো করতে বাধা দেওয়া বলে আঙুল তুলেছেন মমতা সরকারের দিকে। সেই সঙ্গে এবার দুর্গা পুজোর বাংলার ১৮ জন বিজেপি সাংসদকে রাজ্যের বিভিন্ন পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই প্রেক্ষিতে আয়কর আদায় প্রসঙ্গে বিজেপিকে খোঁচা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। পুজোকে সামনে রেখে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়। কেউ প্যান্ডেল তৈরি করেন, কেউ থিমের কাজ করেন, প্যান্ডেলের সাজসজ্জা করে রোজগার করেন। এইরকম একটি সামাজিক কর্মকাণ্ডে আয়কর আদায় কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, তবে বাংলায় অব্যাহত থাকবে শীতের আমেজ