ইভিএম চাই না, ফিরুক ব্যালট, নবান্নে বললেন মমতা, রাজ্যজুড়ে জনসংযোগ যাত্রার কর্মসূচি

ইভিএম চাই না, ব্যালট ফেরানো হোক, সোমবার নবান্নে দলের বিধায়ক ও মন্ত্রীদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্তব্য তৃণমূল নেত্রীর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ইভিএমে কারচুপি হয়ে থাকতে পারে। ভোট চলাকালীন বেশ কিছু ইভিএম খারাপ হওয়ার পর যে নতুন ইভিএম আনা হয়েছিল তাতে মক পোল করা হয়নি, বলেও এদিন অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
২০০৬ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর প্রথমবার ইভিএম বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইভাবে ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটে ধাক্কা খেয়ে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ এনেছিল সিপিএমও। সপ্তদশ লোকসভা ভোটে বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর একাধিক বিরোধী দল ইভিএম কারচুপির অভিযোগ এনেছে। এই প্রেক্ষিতেই সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে ইভিএম বাতিলের ডাক দিয়ে ব্যালটেই ভরসা রাখলেন তৃণমূল নেত্রী। মমতার প্রশ্ন, ৯৮ শতাংশ ইভিএমে যে কারচুপি করা হয়নি তার প্রমাণ কী?

নাম না করে আরও একবার নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করেছে বিজেপি। তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, ইভিএমে কারচুপি, অর্থ ও পেশি শক্তির যথেচ্ছ ব্যবহারেই ভোটে জিতেছে বিজেপি। নকল ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হয়েছে, মানুষের মনে মিথ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, অবশ্য তাতেও এরাজ্যে বিজেপিকে ১৮ টি আসনেই থামতে হয়েছে বলে মন্তব্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
রাজ্যে বিজেপির অভূতপূর্ব উত্থানের প্রেক্ষিতে মমতা বলেন, এখনও তাঁরাই বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, বিধানসভায় হারের ভয়ে এখন তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করছে বিজেপি। পাশাপাশি মমতা জানান, ২১ শে জুলাইকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে জনসংযোগ যাত্রা করবে তৃণমূল। দলের বিধায়কদের সঙ্গে বিভিন্ন জেলার সভাপতিদের বৈঠকে স্থির করা হবে জনসংযোগ যাত্রাপথ। জ্বালানি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনে নামার কথা ভাবছে তৃণমূল। অন্যদিকে স্কুল পাঠ্যে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার কেন্দ্রীয় প্রবণতারও তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী, বলেন, আঞ্চলিক ভাষাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।

Comments are closed.