নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন প্রতিবাদ মিজোরামে, রাজ্যপালের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান বয়কট রাজ্যবাসীর

নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন ভারত, নয় চিনের নাগরিকত্ব চেয়ে রাজ্যপালের অনুষ্ঠান বয়কট করলেন মিজোরামের মানুষ। শনিবারই কয়েকজন নেতা-মন্ত্রী ও সরকারি আধিকারিক ছাড়া রাজ্যের রাজধানী আইজলে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রায় কেউই অংশগ্রহণ করেননি। ৭০তম প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন দৃশ্যত জনমানবহীন মাঠে অনুষ্ঠান করেন রাজ্যপাল কুম্মানাম রাজশেখরণ।
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে কিছুদিন ধরেই উষ্মা প্রকাশ করছিল মিজোরামের প্রায় সবকটি দল। শুক্রবার এমজেডপি, ইয়ং মিজো অ্যাসোসিয়েশন এর যৌথ মিছিল বের হয়। সেখানে অনেকের হাতে দেখা যায় ‘হ্যালো চায়না, বাই বাই ইন্ডিয়া’ পোস্টার। বেশ কিছু পোস্টারে লেখাও ছিল চিনা হরফে। মিছিলের নেতৃত্বদানকারী নেতাদের বক্তব্য, নাগরিকত্ব বিল নিয়ে অসন্তোষ ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছে। তাঁরা মনে করছেন, চিনের হাত ধরাই ভালো।
মিজোরাম ও উত্তর পূর্ব ভারতের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ডাকে দু’দিন আগে থেকেই পথে নেমেছেন রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীরা। এক ছাত্র সংগঠনের নেতার কথায়, মিজোরামে বসবাসকারী মানুষের ক্রমশ ধারণা স্পষ্ট হচ্ছে যে, ভারত তাদের কথা ভাবে না। শুধুমাত্র বেআইনি অনুপ্রবেশকারীর জন্যই এখন যাবতীয় ভাবনা কেন্দ্র সরকারের। ওই ছাত্র নেতার বক্তব্য, এই অবস্থায় মিজোরা ভাবছেন চিনের সাহায্যের কথা।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রের প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব বিল (সংশোধনী) এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন অসম ও মিজোরামের মানুষ। কিছুদিন আগেই এই বিল নিয়ে মতান্তরের জেরে বিজেপির জোট ছেড়েছে অসম গণ পরিষদ (অগপ)।
এই সংশোধিত বিল অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে এদেশে চলে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পার্সি, শিখ ধর্মাবলম্বীদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। এতেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন মিজোরামবাসী। তাঁদের অভিযোগ, স্থায়ী বসবসকারীদের স্বার্থের দিক ভেবে দেখেনি কেন্দ্র। প্রতিবাদীদের দাবি, ভারত সরকার যদি ওই রাজ্যের বসবাসকারীদের কথা না ভাবে, তবে তারাও আর মুখ বুজে থাকবেন না। মিজোরামকে এই বিলের বাইরে না রাখলে তাঁরা ভারতীয় নাগরিকত্ব বাতিল করে চিনের শরণাপন্ন হবেন বলে জানান এক নেতা।

Comments are closed.