চিট ফান্ড ও নারদ তদন্তের মুখ্য তদারকি অফিসার নাগেশ্বর রাওকে সরানো হল সিবিআই থেকে, কারণ নিয়ে জল্পনা

সিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিরেক্টর পদ থেকে সরানো হল এম নাগেশ্বর রাওকে। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে নিয়োগ সংক্রান্ত ক্যাবিনেট মিটিং হয়। সেখানেই ১৯৮৬ সালের ওড়িশা ক্যাডারের আইপিএস অফিসার এম নাগেশ্বর রাওকে সিবিআইয়ের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর পদ থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ, দমকল ও অসামরিক নিরাপত্তা ও হোমগার্ডের ডিরেক্টর জেনারেলের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০১৮ সালের মাঝামাঝি সিবিআইয়ের দুই প্রধান অলোক ভার্মা ও রাকেশ আস্থানার বেনজির দ্বন্দ্বের পর এম নাগেশ্বর রাওকে সিবিআইয়ের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান করা হয়েছিল। গত বছর ২৩ শে অক্টোবরে সিবিআইয়ের অন্তর্বর্তীকালীন ডিরেক্টর হন তিনি। সারদা-রোজভ্যালি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চিটফান্ড মামলার তদন্তে মুখ্য তদারকি আধিকারিক ছিলেন নাগেশ্বর রাও। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সিবিআইয়ের ডিরেক্টর পদে বসানো হয় ঋষিকুমার শুক্লাকে। সিবিআইয়ের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান পদে থাকার শেষ দিনে নাগেশ্বর রাওয়ের নির্দেশে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই। অভিযোগ ওঠে, কলকাতার এক বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে নাগেশ্বর রাওয়ের স্ত্রী ও মেয়ের অর্থনৈতিক লেনদেনে জড়িত থাকার ঘটনায় কলকাতা পুলিশ তদন্ত করার জন্যই, সারদা কাণ্ডে রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করার জন্য সক্রিয় হয়েছিল সিবিআই। পরবর্তীকালে আদালতে জমা দেওয়া হলফনামাতেও রাজীব কুমার অভিযোগ করেন, নোটবন্দির সময় কলকাতার এক বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে বেআইনি টাকা লেনদেনে নাগেশ্বর রাওয়ের স্ত্রী ও মেয়ের জড়িত থাকার হদিশ মিলেছিল। সেই তদন্ত করার জন্যই নাগেশ্বর রাওয়ের নির্দেশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে হেনস্থা করছে সিবিআই।
এই পরিস্থিতিতে গত মাসেই সারদা, রোজভ্যালি সহ সমস্ত চিট ফান্ড মামলার গতিপ্রকৃতি খতিয়ে দেখতে কলকাতায় এসে তদন্তকারী সিবিআই অফিসারদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছিন নাগেশ্বর রাও।
শুক্রবার ক্যাবিনেট নির্দেশিকায় বলা হয়, নাগেশ্বর রাওকে আগামী ৩১ শে জুলাই ২০২০ সালে তাঁর অবসরের দিন পর্যন্ত দমকল ও অসামরিক নিরাপত্তা ও হোমগার্ডের ডিরেক্টর জেনারেলের পদে নিয়োগ করা হল। প্রসঙ্গত, সিবিআইয়ের প্রাক্তন প্রধান অলোক ভার্মাকেও তাঁর পদ থেকে সরিয়ে এই দমকল ও অসামরিক নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যে নাগেশ্বর রাও এ রাজ্যের নারদ ও চিট ফান্ড তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁকে কেন হঠাৎই সরানো হল তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে সিবিআইয়ের অন্দরে।

Comments are closed.