দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: দেশের সীমান্ত সুরক্ষাকে নিশ্ছিদ্র করতে এবং যুদ্ধের ময়দানে শত্রুপক্ষকে টেক্কা দিতে এক বড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় সেনা। ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে এবং এই ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ভারতীয় সেনার তরফে একটি বিশেষ প্রযুক্তিগত পথনকশা বা ‘টেকনোলজি রোডম্যাপ ফর আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম’ প্রকাশ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল আগামী দিনে ভারতের সামরিক বাহিনীর নজরদারি এবং আক্রমণের ক্ষমতাকে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
ড্রোনের আধুনিকীকরণে জোর ভারতীয় সেনার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই পথনকশাটি উন্মোচন করা হয়। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখায় চালকহীন বিমান বা আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (UAV) এবং ড্রোনের পরিকাঠামোকে আরও উন্নত করা। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের কথা মাথায় রেখেই এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক পদস্থ আধিকারিক এই বিষয়ে বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের চরিত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্তমানে ড্রোন এবং চালকহীন আকাশযান যেকোনো সামরিক অপারেশনের ক্ষেত্রে গেম-চেঞ্জার হয়ে উঠেছে। ভারতের ভৌগোলিক পরিস্থিতি এবং দীর্ঘ সীমান্ত পাহারা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই দেশীয় প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং আত্মনির্ভরতার নতুন দিগন্ত ভারতীয় সেনার তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এই রোডম্যাপের অধীনে তৈরি হতে চলা ড্রোন এবং আনম্যানড সিস্টেমগুলির সিংহভাগই ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হবে। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্র এবং দেশীয় স্টার্ট-আপগুলি এক বিশাল সুযোগ পাবে। শুধু বড় আকারের ড্রোনই নয়, নজরদারির জন্য ক্ষণস্থায়ী মাইক্রো-ড্রোন থেকে শুরু করে সীমান্তে রসদ সরবরাহের জন্য ভারী কার্গো ড্রোন তৈরির ওপরেও এই নীতিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লাদাখ বা অরুণাচল প্রদেশের মতো দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত অঞ্চলে যেখানে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সাধারণ নজরদারি চালানো কঠিন, সেখানে এই আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম ভারতীয় সেনার চোখ হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ডেটা বা লাইভ তথ্য সংগ্রহ করা অনেক সহজ হবে, যা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
ভারতীয় প্রযুক্তির বিকাশে যৌথ উদ্যোগ এই প্রযুক্তিগত রোডম্যাপ সফল করতে ভারতীয় সেনা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা (যেমন DRDO) এবং বেসরকারি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। ড্রোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের উন্নয়ন এবং দীর্ঘ সময় আকাশে উড়তে সক্ষম ব্যাটারি প্রযুক্তির বিকাশ এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অংশ।
জাতীয় সুরক্ষার পাশাপাশি এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিদেশি আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই রোডম্যাপের বাস্তবায়ন ভারতীয় সেনাকে প্রযুক্তির দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক বাহিনীতে পরিণত করবে।




