দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী ৩ জুন নবান্নে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনার উদ্বোধন করেছেন। এই প্রকল্পে যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা পাবেন এবং প্রথম দিনই ২৮ লক্ষেরও বেশি সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা পড়েছে। রাজ্য সরকারের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন বিভাগ এই প্রকল্পের নোডাল সংস্থা।
প্রকল্পের পটভূমি: লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে অন্নপূর্ণায় রূপান্তর
২০২১ সালের আগস্টে তৃণমূল সরকার লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প চালু করেছিল, যেখানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং SC-ST মহিলারা ১,৭০০ টাকা পেতেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টি জিতে BJP ক্ষমতায় আসে এবং ৯ মে সুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন। ১১ মে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই অন্নপূর্ণা ভান্ডার অনুমোদিত হয় এবং ১৯ মে রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হয়।
লক্ষ্মীর ভান্ডারের তুলনায় কতটা পরিবর্তন হল?
লক্ষ্মীর ভান্ডারে প্রায় ২.২০ কোটি মহিলা নথিভুক্ত ছিলেন। সরকার SIR-2026 যাচাইয়ের পর ৩০ লক্ষ সুবিধাভোগীকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে কারণ তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা তাঁরা ভারতীয় নাগরিক নন বলে চিহ্নিত হয়েছেন। বাকি প্রায় ২ কোটি মহিলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণায় স্থানান্তরিত হবেন, তাঁদের নতুনভাবে আবেদন করতে হবে না। লক্ষ্মীর ভান্ডারের সর্বোচ্চ ১,৭০০ টাকার তুলনায় অন্নপূর্ণায় সব শ্রেণির মহিলা সমানভাবে ৩,০০০ টাকা পাবেন।
আরও পড়ুন: আকাশ ছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, দামে লাগাম টানতে বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন?
১৯ মে-র সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা মহিলা হতে হবে এবং বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। DBT-তে অর্থ পাঠানো হবে বলে আধার-সংযুক্ত সক্রিয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক।
তবে কিছু শ্রেণি সুবিধার বাইরে থাকবেন। আয়করদাতা মহিলা, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, পঞ্চায়েত, পৌরসভা বা সরকার-পোষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতনভোগী বা পেনশনভোগী মহিলারা এই প্রকল্পের আওতার বাইরে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও পোর্টালে উল্লিখিত প্রয়োজনীয় নথির তালিকা হল: আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র (EPIC), ব্যাংক পাসবুক বা অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট, বাসস্থানের প্রমাণ এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি। আবেদনপত্রে পরিবারের ডিজিটাল রেশন কার্ডের তথ্য, পরিবারের আয় ও পেশার বিবরণ, এবং সরকারি প্রকল্পে নথিভুক্তির বিষয়ও উল্লেখ করতে হবে।
আরও পড়ুন: কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় আগামী কয়েকদিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাষ
কীভাবে আবেদন করবেন?
অনলাইন পদ্ধতি
রাজ্য সরকারের সরকারি পোর্টাল socialsecurity.wb.gov.in-এ গিয়ে “Access Citizen Portal” বিকল্পে ক্লিক করতে হবে। জেলা নির্বাচনের পর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে OTP যাচাইয়ের মাধ্যমে লগইন করা যাবে। ফর্মটি ইংরেজি, বাংলা এবং হিন্দিতে ডাউনলোড করাও সম্ভব। আবেদন জমা দিলে SMS-এ একটি Application Reference Number পাওয়া যাবে, যা দিয়ে পোর্টালে স্ট্যাটাস খতিয়ে দেখা যাবে।
অফলাইন পদ্ধতি
অফলাইন আবেদনপত্র ২৭ মে থেকে নবান্ন, স্থানীয় পঞ্চায়েত অফিস, পৌরসভা অফিস এবং ব্লক অফিস থেকে পাওয়া যাচ্ছে। BDO-র নেতৃত্বে দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদনকারীদের ফর্ম পূরণে সহায়তা করবে। রাজ্য সরকার ১৫ থেকে ১৭ জুন সারা রাজ্যে “জনকল্যাণ শিবির” আয়োজন করেছে, যেখানে সরাসরি ফর্ম জমা দেওয়া যাবে। বিধায়করাও সুবিধাভোগীদের ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন বলে সরকার জানিয়েছে।
আবেদনের শেষ তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৬। এর পর সংশ্লিষ্ট Sub-Divisional Officer, BDO ও পৌর কর্তৃপক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
আধার ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
যাঁদের আধার-সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় বা ভুল রয়েছে, তাঁদের NPCI-র সরকারি ওয়েবসাইট npci.org.in-এ গিয়ে “Bharat Aadhaar Seeding Enabler (BASE)” বিকল্পের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট আপডেট করতে হবে। DBT শুধুমাত্র আধার-সংযুক্ত সক্রিয় অ্যাকাউন্টেই পাঠানো হয়, তাই এই যাচাই আবেদনের আগেই সেরে নেওয়া জরুরি। রাজ্য হেল্পলাইন নম্বর 1800-345-5505 (টোল ফ্রি)-এ সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে।
মহিলা ও শিশু উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল জানিয়েছেন, প্রতি সাত দিন অন্তর সুবিধাভোগীদের তালিকা হালনাগাদ হবে, ফলে ধাপে ধাপে আরও বেশি মহিলা প্রকল্পের আওতায় আসবেন। চূড়ান্তভাবে প্রায় ২ কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে এই সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।