দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: জনস্বাস্থ্যে বড় অঙ্কের বরাদ্দ অনুমোদন বাংলাদেশ সরকারের। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (EPI), যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ এবং HIV/AIDS রোগীদের চিকিৎসা – তিনটি কর্মসূচির জন্য টিকা ও ওষুধ ক্রয়ে মোট ৪৬৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকার চারটি প্রস্তাব অনুমোদন দিল সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার, ১০ জুন সচিবালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
EPI টিকা সংগ্রহে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ
অনুমোদিত প্রস্তাবগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির জন্য ভ্যাকসিন সংগ্রহ। ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় (Direct Procurement) পদ্ধতিতে ৭ ধরনের মোট ৭৭ লাখ ৯৫ হাজার ৬৩৬ ভায়াল ভ্যাকসিন কেনা হবে। এই খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১২ কোটি ৭১ লাখ টাকা – মোট অনুমোদনের প্রায় ৯০ শতাংশ।
এই ভ্যাকসিনগুলি আসবে সাতটি দেশ থেকে – জাপান, ডেনমার্ক, ভারত, বুলগেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বেলজিয়াম এবং দক্ষিণ কোরিয়া। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির অধীনে শিশু-জনগোষ্ঠীর প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই বরাদ্দ। বাংলাদেশের EPI কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সফল টিকাদান উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত।
আরও পড়ুন: মেট্রোর কাজ চললেও ময়দান এলাকায় গাছ কাটা যাবে না; নির্দেশ প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের
যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে বাড়তি বরাদ্দ
জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় দু’টি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। অতিরিক্ত ১ কোটি ৭ লাখ ৭৩ হাজার ইউনিট অ্যান্টি-টিবি ওষুধ সংগ্রহে ব্যয় হবে ১৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সঙ্গে যক্ষ্মা রোগ দ্রুত শনাক্তকরণের জন্য ২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ জিনএক্সপার্ট কার্ট্রিজ কেনা হবে; এই খাতে অনুমোদিত বরাদ্দ ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
জিনএক্সপার্ট প্রযুক্তি যক্ষ্মার দ্রুত এবং নির্ভুল নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয় – বিশেষত ওষুধ-প্রতিরোধী (MDR-TB) ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অনেক। বাড়তি কার্ট্রিজ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে শনাক্তকরণের গতি বাড়াবে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রের ইঙ্গিত।
HIV/AIDS রোগীদের জন্য অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল
HIV/AIDS রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে অতিরিক্ত ১৯ লাখ ৭৬ হাজার ৭৬০ ইউনিট অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল ওষুধ কেনার প্রস্তাবেও সিলমোহর পড়েছে। এই খাতে অনুমোদিত ব্যয় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART) HIV আক্রান্তদের আজীবন গ্রহণ করতে হয়; নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা তাই কর্মসূচির ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পক্ষে অপরিহার্য।
আরও পড়ুন: মাঝরাতে ২ বাংলাদেশিকে পিষে মারল বেপরোয়া জাগুয়ার, গ্রেফতার আরসালান রেস্তরাঁর মালিকের ছেলে
প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতে এই ধরনের বড় কেন্দ্রীয় ক্রয় অনুমোদন সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য। EPI কর্মসূচি বরাবরই দাতা-সহায়তা ও ইউনিসেফের সরবরাহের উপর নির্ভরশীল; ফলে নিয়মিত ক্রয়-অনুমোদন ছাড়া কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। যক্ষ্মা ও HIV – দু’টিই বাংলাদেশের জাতীয় জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারে রয়েছে। যক্ষ্মার বার্ষিক রোগী-সংখ্যা এবং HIV আক্রান্তদের ক্রমবর্ধমান হার মাথায় রেখে এই বাড়তি বরাদ্দ ‘ধারাবাহিকতা রক্ষার পদক্ষেপ’ বলেই মনে করা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার ক্রয় কমিটি বৈঠকের পর অর্থ মন্ত্রকের তরফে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা রয়েছে। কার্যাদেশ জারির পর কতদিনে প্রকৃত সরবরাহ শুরু হবে – সে দিকে নজর থাকবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দাতা সংস্থাগুলির।