বিজেপিকে দিয়ে তৃণমূলকে শায়েস্তা করে পরে নিজেদের শক্তিবৃদ্ধির কথা যে বাম-কংগ্রেস নেতারা ভাবছেন, তাঁরা মুর্খের স্বর্গে বাস করছেন: ওমপ্রকাশ মিশ্র

সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিমের পর এবার কংগ্রেস নেতা ওমপ্রকাশ মিশ্র রাজ্যে বিজেপিকে প্রধান শত্রু চিহ্নিত করে বাম-কংগ্রেসের আন্দোলন কর্মসূচি গড়ে তোলা উচিত বলে সরাসরি সওয়াল করলেন। পাশাপাশি, বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূল-বিজেপিকে এক ব্র্যাকেটে ফেলে দু’দলকেই সমান বিরোধিতা করার ডিভিডেন্ড পেয়েছে বিজেপি। বাম-কংগ্রেসের এই রাজনৈতিক কৌশল ভুল ছিল। ওমপ্রকাশ মিশ্রর মতে, সিপিএম-কংগ্রেসের যাঁরা মনে করছেন আগে বিজেপিকে দিয়ে তৃণমূলকে শায়েস্তা করবেন, তারপর নিজেরা শক্তিশালী হবেন, তাঁরা মুর্খের স্বর্গে বাস করছেন।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এবং প্রদেশ কংগ্রেস ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই রাজ্যে তৃণমূল এবং বিজেপি সম্পর্কে সম-দূরত্বের লাইন নিয়েছে। এই লাইন যে ভুল এবং বিজেপিকেই প্রধান বিপদ চিহ্নিত করতে হবে এ কথা উল্লেখ করে লোকসভা ভোটের পর ট্যুইট করেছিলেন মহম্মদ সেলিম। সেলিমের এই ট্যুইট নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে সিপিএমের অন্দরে।


আরও পড়ুনঃ ‘তৃণমূল-বিজেপি সমান বিপজ্জনক’, আলিমুদ্দিনের এই লাইন খারিজ করে ট্যুইট সেলিমের, রাজ্য কমিটিতে ঝড়ের পূর্বাভাস


সম্প্রতি রাজ্যে খারাপ ফলের দায় নিয়ে কংগ্রেস সহ সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ওমপ্রকাশ মিশ্র। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রকে নিশানা করে তিনি ফেসবুকে লেখেন, রাজ্যে বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা ভেঙে বিজেপির সুবিধা করে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্বের একাংশ। সোমবার আরও একধাপ এগিয়ে ওমপ্রকাশ মিশ্র বললেন, লোকসভা ভোটের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজ্যে বিজেপিই প্রধান বিপদ। তাদের বিরুদ্ধেই প্রধান আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। রাজ্যের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা যেতেই পারে। কিন্তু তা আলাদা মঞ্চ থেকে করতে হবে। একই প্ল্যাটফর্ম থেকে তৃণমূল এবং বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করা ঠিক হচ্ছে না। দু’দলের বিরুদ্ধে আলাদা আন্দোলন করতে হবে। নতুন রাজনৈতিক লাইন নিতে হবে কংগ্রেস এবং বামেদের।
ওমপ্রকাশ মিশ্র বলেন, একেই আসন সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার সুবিধা পেয়েছে বিজেপি। এখনই ভুল শুধরে নতুন কৌশল নেওয়া জরুরি। আমরা তৃণমূল এবং বিজেপিকে এক সুরে নিশানা করার সুবিধা পেয়েছে বিজেপি। বাম-কংগ্রেসের অনেকেই মনে করেছেন, বিজেপিকে দিয়ে আগে তৃণমূলকে শায়েস্তা করি, তারপর বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে। এই চিন্তা সম্পূর্ণ ভুল। যাঁরা এমন ভাবছেন, তাঁরা মুর্খের স্বর্গে বাস করছেন। নিজের বক্তব্য দিল্লিতে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাবেন বলেও ঠিক করেছেন ওমপ্রকাশ মিশ্র।
ইতিমধ্যেই লোকসভা ভোটের পর বিজেপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে দরকারে একযোগে আন্দোলনের জন্য কংগ্রেস এবং বাম নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় রাজ্যের তফশিলি জাতি এবং উপজাতিভুক্ত বিধায়কদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম এবং কংগ্রেসের বিধায়করাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভায় একাধিকবার কথা বলেছেন বাম পরিষদী নেতৃত্বের সঙ্গে। এরই মধ্যে ওমপ্রকাশ মিশ্রর মতো তৃণমূল বিরোধী কংগ্রেস নেতা যে নতুন তত্ত্ব উত্থাপন করলেন, তা রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

Comments are closed.