প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে প্রবেশের পর প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রথম মিটিংয়ের সময়সীমা ছিল প্রায় ১৬ ঘন্টা। মঙ্গলবার দুপুরে লখনউয়ে মিটিং শুরু করেন প্রিয়াঙ্কা, তা শেষ হয় বুধবার ভোর সাড়ে ৫ টায়। আর লখনউয়ে তিনি দ্বিতীয় ম্যারাথন মিটিং করলেন ১৫ ঘন্টা। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটে নাগাদ শেষ হল তাঁর দ্বিতীয় মিটিং।
সূত্রের খবর, দ্বিতীয় মিটিংয়ে উত্তর প্রদেশের ১১ টি লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা যোগ দিয়েছিলেন। দিল্লির ক্ষমতা দখলের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ উত্তর প্রদেশের ৮০টি লোকসভা কেন্দ্র। কংগ্রেস আগেই জানিয়ে দিয়েছে, জোট ছাড়াই এবার ৮০টি আসনে লড়বে তারা। উত্তর প্রদেশের পূর্ব অংশের মোট ৪১ টি লোকসভা কেন্দের দায়িত্ব বর্তেছে প্রিয়াঙ্কার ওপর। বাকি ৩৯ টি লোকসভা কেন্দ্রের ভার দেওয়া হয়েছে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে। বৃহস্পতিবারের ম্যারাথন মিটিংয়ে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। মিটিং শেষে প্রিয়াঙ্কার প্রতিক্রিয়া পাননি সাংবাদিকরা। তবে কংগ্রেসের আর এক জেনারেল সেক্রেটারি জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এই দীর্ঘ মিটিং প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, ৫ দিনের টেস্ট ম্যাচ এটা। টি ২০ খেলা নয়।
অর্থাৎ, লোকসভা ভোটের আগে উত্তর প্রদেশে পুরোপুরি ‘ফিট’ হয়েই ভোট ময়দানে নামছে কংগ্রেস।
উত্তর প্রদেশের স্থানীয় এক কংগ্রেস নেতার কথায়, প্রিয়াঙ্কাজী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ৮০ টি আসনেই জোরদার লড়াই করতে হবে।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারের মিটিংয়ে গোরখপুর, দেওরিয়া এবং বাঁসগাঁও, এই তিনটি লোকসভা কেন্দ্র নিয়ে বিশদে আলোচনা করেন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। ওই তিনটি কেন্দ্রই বিজেপির ‘স্ট্রং জোন’ বলে পরিচিত। তাই এই লোকসভা কেন্দ্রগুলিতে বিশেষ নজর দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। ওই নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে আগত কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের মতামতও মন দিয়ে শোনেন কংগ্রেসের নতুন জেনারেল সেক্রেটারি।
১৫ ঘন্টা মিটিংয়ের জন্য বাড়ি থেকে খাবারও এনেছিলেন কয়েকজন নেতা। পুরি ও আলুর দম আনা এক নেতার কথায়, প্রথম মিটিংয়ে যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে। তাই দ্বিতীয় মিটিংয়ের রাতে আর খিদে নিয়ে বসে থাকার ঝুঁকি নেননি তাঁরা।
লখনউয়ের মিটিংয়ে অংশ নেওয়া কয়েকজন কংগ্রেস কর্মী সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের মিটিংয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী জানিয়েছেন, উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস সংগঠনকে মজবুত করা এবং ওই রাজ্যে কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য। প্রিয়াঙ্কা দলীয় নেতা-কর্মীদের বলেন, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের লড়াই হবে রাহুল গান্ধী ও নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে।

You may also like