সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর হাত থেকে পুরস্কার নিতে অস্বীকার করলেন দিল্লির ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটির টপার সুরভি কারওয়া। গত এপ্রিল মাসে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এক মহিলার আনা যৌন হেনস্থার অভিযোগের ঘটনায় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ও শীর্ষ আদালতের ভূমিকায় খুশি হননি টপার সুরভি কারওয়া। সেই কারণেই প্রধান বিচারপতির হাত থেকে পুরস্কার নিতে তাঁর নীতিগত আপত্তি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন সুরভি।
শনিবার যখন ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এলএলএম ক্লাসের প্রথম স্থানাধিকারীর নাম ঘোষণা হয়, সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন সুরভি কারওয়া। যদিও সুরভি জানতেন, এবারের গোল্ড মেডেল তিনিই পাচ্ছেন। কিন্তু যখনই জানতে পারেন মেডেলটি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর হাত থেকে নিতে হবে, তখন ভেবেচিন্তেই সুরভি সমাবর্তন অনুষ্ঠান এড়িয়ে যান বলে খবর।
সংবাদমাধ্যমকে সুরভি কারওয়া জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তিনি ভেবে গিয়েছেন প্রধান বিচারপতির হাত থেকে এই পুরস্কার নেবেন কিনা। কিন্তু আইনের ছাত্রী হিসেবে তিনি যা শিখেছেন, সেই আইনগত এবং নীতিগত প্রশ্নে নিজেকে ওই অনুষ্ঠান থেকে সরিয়ে নেন বলে মন্তব্য করেন সুরভি কারওয়া। দিল্লির ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটির গোল্ড মেডালিস্টের কথায়, যেভাবে গত এপ্রিল মাসে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হেনস্থার অভিযোগের মামলায় বিচার প্রক্রিয়া চলেছে, তাতে প্রশ্ন থেকে গিয়েছে। এ কারণেই সমাবর্তনে তিনি উপস্থিত হননি। তবে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হলেও তিনি যে পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেননি, সেটাও জানান সুরভি কারওয়া। বলেন, গোল্ড মেডেল পাওয়াটাই বড় সম্মানের, কার হাত দিয়ে এই সম্মান নিচ্ছেন সেটা তাঁর কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।
প্রসঙ্গত গত এপ্রিল মাসে সুপ্রিম কোর্টের এক মহিলা কর্মচারী ২৯ পাতার হলফনামা পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের। সেখানে ওই মহিলা কর্মচারী চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর বিরুদ্ধে। এই মামলার তদন্তে ইন-হাউস কমিটি গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া চললেও পরে অভিযোগকারিণী নিজেই এই মামলা প্রত্যাহার করে নেন। তাঁর অভিযোগ, নিজের পছন্দমতো কোনও আইনজীবী রাখতে পারেননি তিনি।
আরও পড়ুন: পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণ করছে জঙ্গিরা, বিস্ফোরক অভিযোগ সেনাপ্রধানের বিপিন রাওয়াতের




