কে এই সৈকত চক্রবর্তী, যিনি মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত ডেমোক্রাটিক সোশ্যালিস্ট অ্যালেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্টেজের চিফ অফ স্টাফ
ব্রনক্সে জন্ম নেওয়া ওকাসিও কোর্টেজের বয়স ২৯ বছর। তিনি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট অফ আমেরিকা নামে একটি সংগঠনের সদস্য। এই সংগঠনটি পরিবর্তনের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের ক্ষমতায়নের পক্ষে কথা বলে। ইউনাইটেড স্টেটস কংগ্রেসের সদস্য হিসাবে শপথ নেওয়ার দিন সাদা পরিধান পরিহিত AOC একটি ট্যুইটার বার্তায় জানিয়েছিলেন, এটা সেই সমস্ত মহিলাকে সম্মান জানানোর জন্য, যাঁরা আমার আগে এই কঠিন পথ পেরিয়ে এসেছেন এবং আগামী দিনে আরও যাঁরা আসবেন। AOC একজন জনপ্রিয় সমাজকর্মী। আমি তাঁকে ইনস্টাগ্রাম ও ট্যুইটারেও ফলো করি।

যখন স্যান্ডার্সের হয়ে প্রচার চালাচ্ছিলেন সৈকত, সে সময় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় অ্যালেক্সান্দ্রা রোজাস ও কর্বিন ট্রেন্ট নামে দুই ব্যক্তির। এই দুই ব্যক্তি যৌথভাবে জাস্টিস ডেমোক্রেটস নামে একটি পলিটিকাল অ্যাক্সান কমিটি তৈরি করেছেন। এই কমিটির পরিচিতির মূল কথা হল, ‘ আমাদের সময়ে এমন এক ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রয়োজন, যারা ভোটারদের হয়ে লড়বে, শুধুমাত্র কর্পোরেট দাতাদের জন্য নয়।’
এই জাস্টিস ডেমোক্রেটস এবং এদের মতোই আরও একটি সংগঠন ব্যান্ড নিউ কংগ্রেস, যার সহ প্রতিষ্ঠাতা হলেন সৈকত চক্রবর্তী, তাঁরা একসঙ্গে হাত মিলিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলে প্রার্হী বাছাই শুরু করেন।

সৈকতদের সেই সফল প্রচার কর্মসূচিরই একটি মুখ হলেন অ্যালেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্টেজ। ওই ১২ জনের মধ্যে অ্যালেক্সান্দ্রিয়াই একমাত্র, যিনি নির্বাচিত হয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসে। সৈকতই হলেন তাঁর ক্যাম্পেন ম্যানেজার ও চিফ অফ স্টাফ।
বছর ৩২ এর সৈকত মনে-প্রাণে একজন সোশ্যালিস্ট। গ্রিন নিউ ডিলের পক্ষে সওয়াল করছেন তিনি। আর্থিক বৈষম্য ও আবহাওয়া পরিবর্তন নিয়ে ওকাসিও কোর্টেজ যে ১২ পৃষ্ঠার বক্তব্য পেশ করেছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে তা তাঁকে লিখতে সাহায্য করেছিলেন সৈকত ও তাঁর টিম। পরে এপ্রসঙ্গে সৈকত জানিয়েছিলেন, ‘আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত আইনি বিষয় জেনে ওই প্রস্তাবটি তৈরি করেছিলাম।’ টিমের প্রত্যেকের কাছেই এত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেটাই প্রথম ছিল বলে জানিয়েছেন সৈকত।
কিছুদিন আগেই সৈকতের নাম উঠেছে পলিটিকোস পাওয়ার লিস্টে। পলিটিকো’কে সৈকত জানিয়েছেন, আগামী দু’বছরে তিনি আরও যেটা করতে চান, তা হল ডেমোক্রাটসরা জিতলে কী কী করা সম্ভব তা তিনি মার্কিনীদের দেখাতে চান। এবং আগামী দিনের এই বহুকাঙ্খিত, বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যেই নিজেদের সেরাটা উজার করে দিয়ে তাঁরা কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন সৈকত।
এমন একটা সময় যখন বাংলার মতো বামপন্থার আঁতুরঘরেই বামপন্থা প্রায় পিছনের সারিতে, তখন পুঁজিবাদের কেন্দ্রস্থলেই কি এই পরিবর্তন উঁকি দিচ্ছে?
Comments are closed.