চিত্র পরিচালক, লেখকের পর এবার দেশের প্রায় ২০০ জন বিজ্ঞানী আবেদন করলেন ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে ভোট দিতে

১০০ জনের বেশি চিত্র পরিচালক, প্রায় ২০০ জন লেখকের পর দেশের প্রায় ২০০ জন বিজ্ঞানী ‘ঘৃণার রাজনীতি’র বিরুদ্ধে সরব হলেন। নাম না করে বিরোধিতা করলেন বিজেপির।
আসন্ন লোকসভা ভোটে সাধারণ মানুষ যেন অসাম্য, বৈষম্য, অযৌক্তিকতা এবং হুমকির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, এই মর্মে দেশের প্রায় ১৯৯ জন বিজ্ঞানী একটি আবেদন পত্রে সই করেন। মুম্বইয়ের টাটা ইন্সটিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ, দিল্লির ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইন্সটিটিউটের মতো দেশের বড় প্রতিষ্ঠানগুলির স্বনামধন্য বিজ্ঞানী ও গবেষকরা রয়েছেন এই তালিকায়।
বুধবার এই বিবৃতিটি ইন্ডিয়ান কালচারাল ফোরামের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞানীরা এই লোকসভা ভোটকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। দেশের মানুষের কাছে তাঁদের আবেদন, যেখানে মৌলিক অধিকার খর্ব হয়, সমান অধিকারে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি থেকে বাক অধিকার খর্ব হয়, তেমন কোনও রাজনৈতিক দলকে যেন ভোট না দেন কেউ।
বিজ্ঞানীদের অভিযোগ, যেখানে গবেষক, লেখক, যুক্তিবাদীদের লাঞ্ছিত করা হয় নানাভাবে, এমনকী জেলে দেওয়া হয়, হত্যা করা হয়, তাদেরকে কোনওভাবেই এদেশের ভবিষ্যতের ভার দেওয়া উচিত নয়। এই মৌলবাদী চিন্তা ও কাজকর্ম শেষ করতে হবে, তবেই কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাক্ষেত্র বা গবেষণায় সুযোগ সুবিধা বাড়বে বলে যুক্তি বিজ্ঞানীদের।
বিজ্ঞানী ও গবেষকরা ওই বিবৃতিতে জানান, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ তৈরি করে, এমন রাজনীতিকে তাঁরা সমর্থন করেন না। যে রাজনৈতিক দল সমাজের মধ্যে ভয় ও ঘৃণার আবহ তৈরি করে তাদের পাশে যেন কেউ না থাকেন বলে বিবৃতিতে জানান বিজ্ঞানীরা।
তাই দেশের মানুষের উদ্দেশে তাঁদের বার্তা, আওয়াজ তুলুন, সমালোচনা করুন আর ভোট দিন চিন্তা-ভাবনা করে। বিজ্ঞানীরা জানান, প্রত্যেক নাগরিক যেন দেশের সংবিধান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন। সংবিধানের দেওয়া অধিকার যেন মানুষ ভুলে না যান। তবে লেখক বা চিত্র পরিচালকদের মতো কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের সরাসরি নাম নেননি বিজ্ঞানীরা। তাঁরা কেবল নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ইস্যুকে তুলে ধরে মানুষকে ভাবনা-চিন্তা করে নির্বাচনে অংশীদার হতে আবেদন করেছেন।
সপ্তাহ খানেক আগেই ১০০ জনের বেশি চিত্র পরিচালক বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার জন্য মানুষের কাছে আবেদন রেখেছিলেন। গত সোমবারই ২৩১ জন ভারতীয় লেখক ‘ ঘৃণার রাজনীতি’র বিরুদ্ধে মানুষকে ভোট দিতে আবেদন করেছিলেন। এবার প্রায় ১৫০ জন বিজ্ঞানী বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার হলেন।

Comments
Loading...