কলকাতা পুরসভার প্রশাসক পদে ইস্তফা ফিরহাদের হাকিমের। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে ইস্তফা। ফিরহাদের ইস্তফার পর কলকাতা পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সচিব খলিল আহমেদের হাতে।
শনিবার নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দেয়, সরকার মেয়াদ উত্তীর্ণ যে সব পুরসভা ও পুরনিগমে প্রাক্তন মেয়র বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসক পদে বসিয়েছিল, বিধানসভা ভোট চলাকালীন তাঁরা সেই পদে কাজ করতে পারবেন না। এরপরই পদত্যাগ করেন ফিরহাদ।
কলকাতা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর বাকি নেতারাও পদত্যাগ করেছেন। ফিরহাদ জানিয়েছেন, মুখ্যসচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। শনিবারেই পদত্যাগ করেছি। এবার নতুন প্রশাসক নিয়োগ করে একজিকিউটিভ অর্ডার প্রকাশ করবেন মুখ্যসচিব।
উল্লেখ্য, রাজ্যে ১৩৫টি পুরসভা ও পুর নিগমের মধ্যে ১২৫টিরই মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছর। নির্বাচন না হওয়ায় সেগুলিতে মেয়র, চেয়ারম্যান, মেয়র পারিষদরাই প্রশাসক পদে ছিলেন। বিধানসভা ভোটের সময় পুরসভার প্রশাসক পদে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিরা প্রভাব খাটাতে পারেন। কমিশনের কাছে এমনই অভিযোগ করেছিল বিজেপি। এরপরেই রাজনৈতিক নেতাদের পুরসভার প্রশাসক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করে নির্বাচন কমিশন।
আরও পড়ুন: অশোকনগরের পর দেগঙ্গায় বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেল ভান্ডারের সন্ধান পেল ONGC
এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের সদস্য অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, ফিরহাদ হাকিম প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করার পর নিয়ম অনুযায়ী বোর্ড ভেঙে যাবে। মনোনয়নপত্র পেশ করার জন্য আলাদা ভাবে অন্য সদস্যদের পুরবোর্ড থেকে পদত্যাগ করতে হবে না। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান ছাড়াও আরও তিন সদস্য অতীন ঘোষ, দেবাশিস কুমার, দেবব্রত (মলয়) মজুমদার এ বার বিধানসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন।
উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়ি ও দিনহাটা ছাড়া প্রায় সব পুরসভায় প্রশাসক পদে রয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। ভোটে প্রার্থী হওয়ার পরই দিনহাটা পুরসভার প্রশাসক পদের দায়িত্ব ছেড়েছেন বিধায়ক উদয়ন গুহ। কিন্তু আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তৃণমূল নেতা মিহির দত্ত। অন্যদিকে শিলিগুড়ি পুর নিগমের প্রশাসক অশোক ভট্টাচার্য আগেই পদত্যাগ করেছেন। কালিয়াগঞ্জের পুর প্রশাসক শচীন সিংহরায়, ডালখোলার পুর প্রশাসক সুভাষ গোস্বামী, ইসলামপুর পুর প্রশাসক কানাইয়ালাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, এই প্রসঙ্গে কোনও নির্দেশিকা পাইনি। কাঁথির পুর প্রশাসক সিদ্ধার্থ মাইতিও কোনও নির্দেশিকা পাননি বলে জানিয়েছেন। একই কথা জানিয়েছেন এগরার পুর প্রশাসক। ঝাড়গ্রামের পুর প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারপার্সন প্রশান্ত রায় বলেছেন, এখনও কোনও নির্দেশিকা পাইনি। নির্দেশিকা এলে পদ্ধতি পদক্ষেপ নেব।
আরও পড়ুন: পুড়ছে শহর, তাপমাত্রা ছুঁতে পারে ৪০ ডিগ্রি; আবহাওয়া নিয়ে আর কী জানাল হাওয়া অফিস
অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া পুরসভার প্রশাসক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ও কালনা পুরসভার প্রশাসক দেবপ্রসাদ বাগ এ বার তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন। এই নির্দেশিকায় পুর প্রশাসকের পদ ছেড়েছেন তাঁরা। হুগলির ১৩টি পুরসভার মধ্যে শুধুমাত্র চন্দননগর পুরসভা চালাচ্ছেন পুর কমিশনার। বাকি ১২টিতে প্রশাসক পদে বহাল রয়েছেন তৃণমূল নেতারা। তাঁরা পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন।