মোদীকে চিঠি ওয়ালমার্টের সিইও’র, চাইলেন ভারতে স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ

ভারতে স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশের আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখলেন ওয়ালমার্টের সিইও ডগ ম্যাকমিলন। সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ইকনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআইয়ের পরিবর্তিত নীতিতে ফাঁপরে পড়েছে ওয়ালমার্ট, অ্যামাজনের মতো মার্কিন ই-কমার্স সংস্থাগুলি। এই প্রেক্ষিতে গত ২৫ শে সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকা সফরের সময় তাঁর সঙ্গে দেখাও করেছিলেন ওয়ালমার্টের চিফ এক্সিকিউটিভ ডগ ম্যাকমিলন। দ্য ইকনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে প্রকাশ, সেখানেই প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে ভারতে ব্যবসা করার ব্যাপারে ওয়ালমার্টের অঙ্গীকার তুলে ধরেন সিইও ডগ ম্যাকমিলন। ভারতে ছোট ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান তৈরির কথাও চিঠিতে লেখা হয়।
যদিও প্রধানমন্ত্রীকে ওয়ালমার্টের সিইও’র চিঠির ব্যাপারে ওয়ালমার্টের ভারতীয় মুখপাত্র কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর ভারতের বিদেশি বিনিয়োগ নীতিতে পরিবর্তন আনায় সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছে ওয়ালমার্টের ই-কমার্স সংস্থা ফ্লিপকার্ট ও তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যামাজন। গত ডিসেম্বরে বিদেশি সংস্থা থেকে যে কোনও প্ল্যাটফর্মে জিনিস বিক্রিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়। অন্যদিকে, ওয়ালমার্ট গত বছরেই প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে ফ্লিপকার্টকে কিনে নেয়। কিন্তু এরপরেই মোদী সরকার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনে। এই পরিবর্তনের জেরে বাধ্য হয়ে নিজেদের ব্যবসায়িক নীতিতে কিছু পরিবর্তন এনেও তেমন খুশি হতে পারছে না এই দুই মার্কিনি সংস্থা।
প্রধানমন্ত্রীকে লেখা ওয়ালমার্টের সিইও’র চিঠি দেওয়ার বিষয়টি এমন সময় উঠে এল, যখন ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজনের ব্যবসায়িক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে এ দেশের খুচরো ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, স্বল্প দামে জিনিস বিক্রির মধ্য দিয়ে দুই ই-কমার্স সংস্থা লুন্ঠনমূলক ব্যবসা করছে। তাদের এই ‘অনৈতিক’ ব্যবসার দাপটে দেশের খুচরো ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে। কনফেডেরাশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্সের দাবি, অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্ট মিলে অক্টোবরের শুরুর ৪ দিনে মোট ১৯ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। সারা বছর বিভিন্ন ছাড়ের অফার তো আছেই, ভারতের উৎসবের মরসুমেও ফ্লিপকার্ট ও অ্যামাজনের বিশেষ অফারের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না খুচরো ব্যবসায়ীরা। গত মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও জানান, ফ্লিপকার্ট ও অ্যামাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সরকার।

Comments
Loading...