দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭১ (AI-171) বিমানের ভয়াবহ দুর্ঘটনা নিয়ে এবার প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো বা এএআইবি (AAIB)-র প্রাথমিক রিপোর্ট নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস (FIP)। পাইলটদের এই সংগঠনের দাবি, দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাতের যে তত্ত্ব তুলে ধরা হয়েছে, তা সঠিক নাও হতে পারে। বরং ওড়ার আগেই বিমানে বড়সড় যান্ত্রিক বা বৈদ্যুতিক ত্রুটি থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
আহমেদাবাদ থেকে গ্যাটউইকগামী বোয়িং ৭৮৭ (Boeing 787) বিমানটি আহমেদাবাদে একটি ভবনের ছাদে ভেঙে পড়েছিল। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয়। ঘটনার এক মাস পর এএআইবি-র তরফে একটি প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু সেই রিপোর্টের উপসংহার নিয়েই এবার তীব্র আপত্তি জানাল খোদ পাইলটদের সংগঠন।
কাঠগড়ায় প্রাথমিক রিপোর্ট, প্রশ্নের মুখে র্যাট (RAT) এএআইবি-র প্রাথমিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, বিমানের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচে গোলযোগের কারণেই রাম এয়ার টারবাইন বা র্যাট (RAT) স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায়। কিন্তু এফআইপি-র তরফ থেকে এএআইবি-র ডিরেক্টর জেনারেলকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, বোয়িং ৭৮৭ বিমানের সিমুলেটর টেস্টিং এই দাবিকে সমর্থন করছে না।
আরও পড়ুন: ডিগবাজি রামদেবের, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীকেই দরকার, বিজেপির মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঘোষণা যোগগুরুর
রিপোর্টে বলা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ৪ থেকে ৫ সেকেন্ডের মধ্যে র্যাট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। কিন্তু পাইলটদের দাবি, সিমুলেটর টেস্টিং অনুযায়ী এই প্রক্রিয়ায় অন্তত ১৮ সেকেন্ড সময় লাগে। এর অর্থ, জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচে গোলযোগের আগেই র্যাট চালু হয়ে গিয়েছিল। এটি বিমানের কোনও পুরনো যান্ত্রিক বা বৈদ্যুতিক ত্রুটির দিকেই ইঙ্গিত করছে, যা বিস্তারিত তদন্তের দাবি রাখে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি পাইলটদের সংগঠন আরও একটি বড় প্রমাণ সামনে এনেছে। আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, বিমানটি টেক-অফের জন্য ঘোরার আগেই রানওয়েতে র্যাট চালু অবস্থায় ছিল। এর পাশাপাশি, দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীদের বয়ানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
টেক-অফের ঠিক আগেই বিমানে বিকট শব্দ শোনা গিয়েছিল এবং কেবিনের আলো নিভে এসেছিল বলে যাত্রীরা জানিয়েছিলেন। পাইলটদের মতে, এই সমস্ত তথ্য একসঙ্গে খতিয়ে দেখলে বোঝা যায়, দুর্ঘটনার সঙ্গে জ্বালানি বিভ্রাটের কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। বরং এটি আগের কোনও ত্রুটির ফলাফল হতে পারে।
আরও পড়ুন: এবিভিপিকে হারিয়ে জেএনইউ-এ বিপুল জয় পেল বামপন্থীরা
নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতিনিধিত্ব করছেন আইনজীবী ডি মাইকেল অ্যান্ড্রুজ। তাঁর কাছ থেকে একটি চিঠি পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে এফআইপি। পাইলটদের সংগঠন স্পষ্ট জানিয়েছে, এএআইবি-কে অবশ্যই নতুন করে এবং স্বাধীনভাবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।
বিশেষ করে র্যাট চালু হওয়া এবং জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচের মধ্যে আদৌ কোনও সম্পর্ক আছে কি না, তা আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এই সমস্ত তথ্য প্রমাণ এবং সিমুলেটরের ফলাফল চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছে পাইলটদের সংগঠন।




