একশো বছর আগে Spanish Flu তে মৃত্যু হয়েছিল ১০ কোটি মানুষের! স্মৃতিচারণায় মাদ্রিদের শতায়ু, আবার সেই দৃশ্য দেখতে চাই না

বিশ্বজুড়ে হাহাকার ফেলে দিয়েছে করোনাভাইরাস। এক অভূতপূর্ব লকডাউনের সামনে থমকে দাঁড়িয়ে মানব সভ্যতা।
মাদ্রিদের বাড়ির খোলামেলা বসার ঘরে বসে এক শতায়ু। তিনি জোস অ্যামেল পেনা। দুনিয়ার ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম মহামারি হিসেবে কুখ্যাত স্প্যানিশ ফ্লু। ১৯১৮ সালে উত্তর স্পেনের লুয়ারকা শহরের বাসিন্দা অ্যামেল পেনার বয়স তখন ৪। ফ্লুয়ের ঘায়ে আধা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে বাড়ির জানালায় বসে খুদে অ্যামেল পেনা দেখেছিল একের পর এক মৃত্যু মিছিল।
এক শতাব্দী পর, ২০২০ সালে বসে স্প্যানিশ ফ্লুয়ের সেই তাণ্ডবের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে অ্যামেল পেনার। বলছেন, খুব সাবধান। আমি আবার সেই দৃশ্য দেখতে চাই না।
স্প্যানিশ ফ্লুয়ের তাণ্ডব নিজের চোখে দেখা অ্যামেল পেনা স্পেনের একমাত্র জীবিত মানুষ, যিনি করোনাভাইরাসের আগ্রাসনও প্রত্যক্ষ করছেন। আর শিউরে উঠছেন একশ বছর আগের ভয়াবহ স্মৃতির অভিঘাতে।
১৯১৮-২০। স্প্যানিশ ফ্লুয়ের তাণ্ডবে কার্যত সাফ হয়ে গিয়েছে একাধিক মানব প্রজাতি। বিশ্বের ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম মহামারি স্প্যানিশ ফ্লু।

 

প্রেক্ষাপট
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তখন সবে শেষ হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বাড়ি ফিরছে সৈন্যদল। কারও মাথায় জয়ের মুকুট, কেউ বা পরাজিত, বিধ্বস্ত। এই সময় সৈন্যদের পিছু পিছু বিশ্বের কোণে কোণে ছড়িয়ে পড়ে একটি মারণ ভাইরাস। তারপর বিশ্বজুড়ে মৃত্যুমিছিল। শহর, গ্রাম, মহল্লা, রাতারাতি সাফ।
১৯১৮ সাল থেকে শুরু হয়ে ১৯২০ সাল পর্যন্ত টানা হত্যালীলা চালায় এই মারণ ভাইরাস। যা পরিচিত স্প্যানিশ ফ্লু নামে। ভারতে পরপর দু’বার এই রোগের প্রাদুর্ভাব হয়।

 

স্পেন থেকে উৎপত্তি?
এখানে লুকিয়ে একটি আজব কিস্যা। স্প্যানিশ ফ্লুয়ের উৎস জানা যায় না। কিন্তু সেই সময় আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে স্পেনের সংবাদমাধ্যম সবচেয়ে স্বাধীনচেতা এবং ডাকাবুকো স্বভাবের ছিল। জনশ্রুতি, একমাত্র তারাই এই মহামারিতে মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা জানিয়ে গিয়েছিল। বাকি সংবাদমাধ্যম শাসকের চাপে মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়েছিল। সেখান থেকেই এর নাম হয়ে যায় স্প্যানিশ ফ্লু।

 

মৃত্যু কত?
স্প্যানিশ প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী গোটা বিশ্বে ৫ থেকে ১০ কোটি মানুষের মৃত্যু। কেবলমাত্র ভারতে মৃত্যু হয়েছিল ১ কোটিরও বেশি মানুষের।

একশো পেরোনা অ্যামেল পেনা চোখ বুঝলে দেখতে পান স্প্যানিশ ফ্লুয়ের তাণ্ডবলীলা। চোখ খুললে করোনাভাইরাসের অভিজ্ঞতা। বিড়বিড় করে বৃদ্ধ কেবল বলে চলেন, সাবধান হও, সাবধান হও।

Comments
Loading...