ভারত পেট্রোলিয়াম সহ আরও পাঁচ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নিকরণে সায় কেন্দ্রের

দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির বিলগ্নিকরণের পথে আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আর্থিক বিষয়ক কমিটি পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নিকরণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম লিমিটেড। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক সূত্রের খবর, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই সংস্থাগুলিতে কেন্দ্রের হাতে থাকা শেয়ার ৫১ শতাংশের নীচে নেমে আসবে। তবে এই সংস্থাগুলির বিলগ্নিকরণ হলেও আপাতত ম্যানেজমেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রসঙ্গত সোমবার সংসদে অনুরাগ ঠাকুর জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের তরফে ২৮ টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শেয়ার বিক্রি সম্পর্কে পূর্ণ সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি অর্থবর্ষে কেন্দ্র লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে এক লক্ষ কোটি টাকা জোগাড়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে।  কিন্তু সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কেন্দ্র যে হারে বিলগ্নিকরণের পথে এগোচ্ছে তাতে এই লক্ষ্যমাত্রার থেকেও বেশি অর্থ জমা হতে পারে কেন্দ্রের ভাড়ারে। যদিও এই সংস্থাগুলির বিলগ্নিকরণের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। মনে করা হচ্ছে, এই অর্থবর্ষের মধ্যেই সংস্থাগুলির বিলগ্নিকরণের পথে হাঁটতে পারে কেন্দ্র।
দিন কয়েক আগেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছিলেন, এয়ার ইন্ডিয়া এবং ভারত পেট্রোলিয়ামের বেসরকারিকরণ আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড বা  বিপিসিএলের সিংহভাগ  শেয়ারই বেসরকারি হাতে তুলে দিতে চাইছে সরকার। বর্তমানে বিপিসিএলের ৫৩.৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে কেন্দ্রের হাতে। কিন্তু এই তেল সংস্থার বেসরকারিকরণ করলেও বিপিসিএলের নুমালিগড় তৈল শোধনাগারটি আপাতত নিজেদের হাতেই রাখতে চাইছে সরকার।
এছাড়াও অন্য যে চারটি সংস্থার বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত কেন্দ্র নিয়েছে  তার মধ্যে রয়েছে শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া, এনইইপিসিও, টিএইচডিসি। এই সংস্থাগুলির সিংহভাগ শেয়ারই বর্তমানে কেন্দ্রের হাতে রয়েছে।
কেন্দ্র মনে করছে, বিপিসিএলের বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা জমা হতে পারে কেন্দ্রের রাজকোষে, যা চলতি অর্থবর্ষে বিলগ্নিকরণ বাবদ কেন্দ্রের আয়ের লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশ। এছাড়াও বাকি চার সংস্থার বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে সরকারের হাতে আসতে পারে ৩০ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় অর্থ  বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, টোল ট্যাক্স আদায়ের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়াকে কিছু স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে। যার পিছনে মূলত সড়ক নিরাপত্তা এবং সড়ক উন্নয়নের যুক্তিই দেখিয়েছে কেন্দ্র।

Comments
Loading...