মহারাষ্ট্রে একক বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও বিরোধী আসনেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বিজেপিকে। এনসিপি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেধে সরকার গড়েছে শিবসেনা। এবার সেই শিবসেনা সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা ভিমা কোরেগাঁও মামলা ছিনিয়ে নিয়ে এনআইএর হাতে তুলে দিল অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। আইন শৃঙ্খলা রাজ্যের এক্তিয়ারে, তাও কীভাবে দিল্লি এমন করতে পারে তা নিয়ে উত্তপ্ত মহারাষ্ট্রের রাজনীতি।
ক্ষমতায় বসার পরেই ভিমা কোরেগাঁও মামলা নিয়ে তৎপর হয় উদ্ধব ঠাকরের সরকার। ভিমা কোরেগাঁও মামলাটি যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সাজানো হয়েছে, তাও বারবার ফুটে ওঠে মন্ত্রিসভার তাবড় সদস্যদের মুখে। এনিয়ে নিজে উদ্যোগী হন উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। ভিমা কোরেগাঁওতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যও করেছিলেন পয়লা জানুয়ারি। বলেছিলেন, নতুন সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই মামলার পুনর্তদন্তের কথা ভাবছে। তার ঠিক পরেই জানা যায়, গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত তথ্য প্রমাণ পেলেই মামলা বাতিলের পথে হাঁটার নীতিগত সিদ্ধান্তও হয়ে গিয়েছে মন্ত্রিসভায়। এই অবস্থায় কার্যত ছোঁ মেরে সেই মামলা তুলে নিয়ে গিয়ে এনআইএর হাতে সঁপে দিল কেন্দ্র। যা নিয়ে নতুন করে ঘনিয়ে উঠেছে কেন্দ্র-রাজ্য বিতণ্ডা।
মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে তীব্র আক্রমণ করা হয়েছে। সরকারের একেবারে প্রথম সারির এক মন্ত্রী বলছেন, গোটা মামলাটিই যে সাজানো, তা ক্রমশ পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় রাজ্য পুনর্তদন্তের কাজ শুরু করলে মুখ পোড়ার আশঙ্কায় ভীত বিজেপি মামলাটিকে তড়িঘড়ি এনআইএর হাতে সঁপে দিল। যাতে মুখ রক্ষা অন্তত করা যায়।
আরও পড়ুন: দাগ ধোয়ার বিজ্ঞাপনে ভাগ সোশ্যাল মিডিয়া!
কেন্দ্রের এমন পদক্ষেপে বিস্মিত রাজনৈতিক মহল। তাদের দাবি, কী এমন লুকোনোর মরিয়া প্রয়াস অমিত শাহের মন্ত্রকের? তাহলে কি শহুরে নকশাল বলে যে শব্দবন্ধের উৎপত্তি তা ব্যুমেরাং হয়ে আসতে পারে ভেবেই শঙ্কিত দিল্লির নেতৃত্ব?
এনআইএকে দিয়ে ভিমা কোরেগাঁওয়ের প্রতিবাদ ধামাচাপা দেওয়া যাবে না বলে ট্যুইট করেছেন রাহুল গান্ধী।

আরও পড়ুন: একাধিক মামলায় ঐতিহাসিক রায়, চিনে নিন দেশের ৫০তম প্রধান বিচারপতিকে
ভিমা কোরেগাঁও হিংসার ঘটনার পর পুণে পুলিশের তদন্তে দাবি করা হয়েছিল, সমাজকর্মীরা নাকি প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। মাওবাদীদের সাথে নিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে ক্ষমতাসীনদের উৎখাত করার চক্রান্তের দাবিও আদালতে করেছিল পুণে পুলিশ। কিন্তু দাবির স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ হাজির করতে ব্যর্থ হয় তারা। এমনকী সমাজকর্মী রোনা উইলসনের ইমেল থেকে পাওয়া যে চিঠি, তাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রাণনাশের ছক করা হয়েছিল বলে পুণে পুলিশ আদালতে দাবি করে, তাও ভুয়ো বলে জানা যায়।
সবমিলিয়ে ভিমা কোরেগাঁও মামলা নিয়ে নতুন করে চড়ছে উত্তেজনার পারদ। সেই বিতর্কে নয়া পর্যায়ে কার্যত মুখোমুখি মহারাষ্ট্র সরকার এবং কেন্দ্র।
