অসমের এনআরসি তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের রিজেকশন অর্ডার দেওয়ার বিষয়টি আরও একবার খতিয়ে দেখতে চলেছে এনআরসি কর্তৃপক্ষ।
গত বছর অগাস্ট মাসে অসমের এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল ১৯ লক্ষ অসমবাসীর নাম। নিয়ম অনুযায়ী যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা তালিকায় ফের নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের কাছে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন হবে রিজেকশন অর্ডারের। যেখানে বলা থাকবে এনআরসি তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণ।
এ বিষয়ে এনআরসি কর্তৃপক্ষের তরফে অসমের কোঅর্ডিনেটর হিতেশ শর্মা জানিয়েছেন, বেশ কিছু রিজেকশন অর্ডারে ভুল নজরে এসেছে। কী কারণে কোনও ব্যক্তির নাম এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়ল তা রিজেকশন অর্ডারে স্পষ্ট করে বলে রাখা উচিত। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে তা বলা হয়নি। তাই বিষয়টি নিশ্চিত করতেই গোটা বিষয়টি ফের পরীক্ষা করে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর জন্য একটি নয়া সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে।
আরও পড়ুন: পরবর্তী পাক প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ইমরান খান
এর আগে অসম সরকার সেখানকার বিধানসভায় জানিয়েছিল, মার্চ মাসের ২০ তারিখ থেকে রিজেকশন অর্ডার দেওয়ার কাজ শুরু হবে। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে সেই কাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে অসম এনআরসি’র কোঅর্ডিনেশন অফিসার হিতেশ শর্মা জানিয়েছেন, করোনা আবহের এই পরিস্থিতিতে লোকজনকে ডেকে লাইনে দাঁড় করিয়ে স্লিপ বিতরণ উচিত হবে না। তাই এই সময়ে রিজেকশন অর্ডারের বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অসমের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সর্বানন্দ সোনওয়াল সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমানে যে অবস্থায় এনআরসি তালিকা তৈরি হয়েছে ও প্রকৃত নাগরিকদের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে তাতে এই তালিকা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সামনের বছরই অসমে বিধানসভা ভোট। তাতে বড় ইস্যু হতে চলেছে এনআরসি। যে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে তার অধিকাংশই হিন্দু। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কিছু ছাপে রয়েছে বিজেপি। সেই কারণেই এনআরসি তালিকা সংশোধনে নজর দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আমেরিকা-ইরান সংঘাত কি যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে? দু’দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনায় সংশয়ে ভারত
