২০০৩ সালে শেয়ার বাজারে নথিভুক্তি। তারপর কেটে গিয়েছে ১৭ বছর। দীর্ঘ পথ চলায় টানা লাভের মুখ দেখে এসেছে মারুতি। কিন্তু করোনা এবং লকডাউনের জোড়া থাবায় এই প্রথমবার লোকসান করল মারুতি সুজুকি। এই অর্থবর্ষের প্রথম ৩ মাসে মারুতি সুজুকির লোকসান হয়েছে ২৪৯.৪ কোটি টাকা। গত বছর একই সময় মারুতির মুনাফা ছিল ১৪৩৫.৫ কোটি টাকা।
কোনও দেশের অর্থনীতির স্বাস্থ্য কেমন তা জানতে বিশেষজ্ঞরা প্রথমেই দেখেন গাড়ি বিক্রির বাজার কেমন। ভারতের অর্থনীতির সঙ্গে মারুতির যাত্রাপথ কার্যত মিলেমিশে একাকার। নরসিংহ রাও জমানায় ভারতীয় অর্থনীতির ছক ভাঙা খাতে দৌড় শুরু করার সময় সঙ্গী ছিল ভারতীয়দের প্রথম গাড়ি হিসেবে পরিচিত মারুতি। তারপর কেটে গিয়েছে বহু বছর। ২০০৩ সালে শেয়ার বাজারে নথিভুক্ত হয়েছে মারুতি সুজুকি। বছর বছর বেড়েছে মুনাফা, ভারতীয় বাজারে আরও বেশি দখল নিতে সক্ষম হয়েছে তারা। এবার সেই সংস্থাতেই লোকসানের ভ্রূকুটি।
করোনা পর্ব শুরুর আগে থেকেই ভারতের অর্থনীতি চাহিদার অভাবে ভুগছে। সেই সঙ্কটের প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছিল দেশের অটোমোবাইল শিল্পের উপর। বোঝার উপর শাকের আঁটির মতো তার সঙ্গে জুড়েছে করোনা অতিমারি। ফলে আগে থেকেই ঝিমিয়ে থাকা অর্থনীতির কার্যত শুয়ে পড়ার আভাস।
আরও পড়ুন: দিল্লি যাত্রা বিপ্লব দেবের, তৃণমূলের ধাক্কায় বেসামাল BJP, কটাক্ষ কুণাল ঘোষের
মারুতি সূত্রে খবর, এপ্রিল-মে-জুন, অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশজুড়ে লকডাউন জারি ছিল। ফলে গাড়ি বিক্রি প্রায় হয়নি। স্বভাবতই উৎপাদনও থমকে যায়। সেই সময় ক্ষতির বহর কমাতে ছাঁটাইয়ের পথেও গিয়েছিল সংস্থা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কোনও পথ্যেই আরোগ্য হয়নি।
মারুতি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এপ্রিলে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে উৎপাদন শুরু হলেও, তা এগোয় ঢিমেতালে। আসল লক্ষ্য ছিল সুরক্ষাবিধি পালন। জুনেও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবতর্ন হয়নি। তারই সামগ্রিক প্রভাব দেখা গিয়েছে সংস্থার ব্যালান্স শিটে।
সাধারণ সময় দু’সপ্তাহের মধ্যে মারুতি সুজুকি যা উৎপাদন এবং বিপণন করে থাকে, এপ্রিল, মে এবং জুন, এই ৩ মাসে একই পরিমাণ উৎপাদন হয়েছে। ফলে মুনাফা যে মার খাবে তা স্বাভাবিক।
আরও পড়ুন: উত্তরপ্রদেশে গুলি করে খুন বিশ্ব হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতিকে, উত্তেজনা
আগের অর্থবর্ষের সঙ্গে এ বারের তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, গত বছর প্রথম ত্রৈমাসিকে মারুতির আয় ছিল ১৮,৭৩৫ কোটি টাকা। এ বছর তা কমে হয়েছে ৩৬৭৭.৫ কোটি টাকা। গত বছর প্রথম ৩ মাসে বিক্রি হয়েছিল ৪ লক্ষেরও বেশি মারুতি গাড়ি। এবার বিক্রি হয়েছে মাত্র ৭৬,৫৯৯ টি গাড়ি।
তবে ক্রমশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলেই মনে করছেন মারুতি সুজুকির কর্তারা। তাঁদের দাবি, অতিমারি মোকাবিলায় মানুষ গণপরিবহণ ব্যবহার কমাচ্ছেন। ফলে গাড়ি বিক্রি বাড়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। সাধারণের এই মনোভাবকেই এখন আশার আলো হিসেবে দেখছে মারুতি সুজুকি।