শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত আনন্দ বর্মণের পরিবার রাজ্য সরকারের দেওয়া চাকরি এবং আর্থিক সাহায্য নিতে রাজি হলেন। শুক্রবার নিহত আনন্দ বর্মনের মা ও ভাই গোবিন্দ বর্মন কোচবিহার তৃণমূলের সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়ের সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের সাহায্য নিতে রাজি হন।
শীতলকুচিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য এবং চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মমতা বন্যার্জি। এদিন পার্থপ্রতিম রায়ের সঙ্গে দেখা করে রাজ্য সরকারের অনুদান এবং পরিবারের এক সদস্যের জন্য হোমগার্ডের চাকরি গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে শীতলকুচির বর্মন পরিবার।
প্রথমে আনন্দ বর্মণের পরিবার মমতা সরকারের থেকে কোনও সহায়তা নিতে অস্বীকার করেছিল। রাজ্য সরকারের দেওয়া পাঁচ লাখ টাকাও প্রত্যাখ্যান করা হয়। বিজেপির পার্টি অফিসে বসে আনন্দ বর্মনের পরিবার জানায়, বিজেপি বাংলার ক্ষমতায় এসে তাঁদের পাশে দাঁড়াবে, তাই তৃণমূল সরকারের কোনও সাহায্য তাঁরা নেবেন না। কিন্তু ভোটের ফল বেরোতেই সিদ্ধান্ত বদল করলেন জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে গিয়ে গুলিতে মৃত্যু হওয়া আনন্দ বর্মনের পরিবার।
আরও পড়ুন: মোদী-মমতা বৈঠকের পরই অগাস্ট মাসে বাংলার জন্য অতিরিক্তি ২৯ লক্ষ কোভিড টিকা বরাদ্দ করল কেন্দ্র
এই প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, আগে রাজ্যের সাহায্য ফিরিয়ে দিলেও এখন কেন তাতে রাজি হলেন আনন্দ বর্মনের পরিবার? তাহলেই কি প্রথমে রাজ্য সরকারের সাহায্য গ্রহণ না করার চাপ ছিল পরিবারের উপর? উত্তর মেলেনি।
গোবিন্দ বর্মন ছাড়াও ১২৬ নং বুথে সিআরপিএফের গুলিতে নিহত আরও চার জনের পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার। ইতিমধ্যেই পরিবার পিছু পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। শুক্রবার তাঁরাও কোচবিহারের তৃণমূল জেলা সভাপতির সঙ্গে দেখা করেন।
১০ এপ্রিল চতুর্থ দফার ভোট চলাকালীন শীতলকুচিতে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় আনন্দ বর্মনের। আনন্দ প্রথমবার ভোট দিতে গিয়েছিলেন। আনন্দের মৃত্যুতে নাম জড়ায় তৃণমূলের। অন্যদিকে ১২৬ নম্বর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয় ৪ গ্রামবাসীর। কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে গুলি চালাতে হল তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা অব্যাহত। ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি। এজন্য একটি সিট গঠন করেছে ভবানী ভবন।
আরও পড়ুন: ২১ জুলাই উপলক্ষ্যে বিশেষ ট্রাম যাত্রার উদ্বোধন করলেন শোভনদেব




