দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না সলমন খান। মঙ্গলবার মুম্বইয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বন্ধু কুমোদ রানীর (Kumod Raney) শেষকৃত্যে গিয়ে স্পষ্টতই ভেঙে পড়েন বলিউড অভিনেতা। ৯ জুন আকস্মিক ভাবেই প্রয়াত হয়েছেন দুবাই-প্রবাসী এই ব্যবসায়ী; বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। মৃত্যুর কারণ এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে জানা যায়নি।
শেষকৃত্যে খান পরিবার
সলমনের পাশে ছিলেন মা সলমা খান এবং সৎ-মা, কিংবদন্তি অভিনেত্রী হেলেন। উপস্থিত ছিলেন ছোট ভাই সোহেল খান, আরেক ভাই আরবাজ খান, আরবাজের ছেলে আরহান খান এবং সোহেল ও সিমা সাজদেহ-র ছেলে নির্বাণ খান। বোন অর্পিতা খান শর্মাও হাজির ছিলেন। সিমা সাজদেহ-কেও দেখা গিয়েছে শেষকৃত্যে।
বলিউডের একঝাঁক পরিচিত মুখ
খান পরিবারের পাশাপাশি কুমোদ রানীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন বহু পরিচিত মুখ – অভিনেত্রী অমৃতা অরোরা, তাঁর স্বামী শকীল লাদাক ও মা জয়েস অরোরা। প্রযোজক চাঙ্কি পাণ্ডে ও তাঁর স্ত্রী ভাবনা পাণ্ডে, অভিনেতা সঞ্জয় কাপুর, মাহীপ কাপুর এবং প্রযোজক নিখিল দ্বিবেদীও উপস্থিত ছিলেন। মাঝবয়সি সলমনকে ধূসর রঙের টি-শার্ট ও জিন্স পরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে- ফোটোগ্রাফারদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই মুহূর্ত।
কে ছিলেন কুমোদ রানী
খান পরিবারের সঙ্গে কুমোদ রানীর সম্পর্ক বহু পুরনো। দুবাইয়ের অভিজাত বিউটি ও ওয়েলনেস ব্যবসার পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি – প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিলাসবহুল বিউটি স্টুডিয়ো ‘Reign Beauty Bar’। ক্ষেত্রটিতে অবদানের জন্য একাধিক সম্মাননাও পেয়েছেন। তবে ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই ক্যামেরার আড়ালে রেখেছিলেন; সাক্ষাৎকার দিতেন না, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতেন মূলত ব্যবসা ও পরিবারের ছবি ভাগ করে নিতে। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ছবি থেকে জানা যায়, তাঁর এক ছেলে আছেন – কবীর।
৬০-তম জন্মদিনই ছিল শেষ উদযাপন
মাত্র চার মাস আগে, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতেই ৬০ বছর পূর্ণ করেছিলেন কুমোদ। সেই উপলক্ষে একটি বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছিল, যেখানে সলমন-সহ খান পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কেক কাটার পর সলমনকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন তিনি – সেই মুহূর্তের একটি ভিডিয়োও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে নতুন করে। বন্ধু ভাবনা পাণ্ডে তখন একটি আবেগঘন পোস্টে তাঁর জন্য সুস্বাস্থ্য ও সুখী জীবন কামনা করেছিলেন।
সোহেল খানের আবেগঘন বার্তা
কুমোদের প্রয়াণের পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে শোক প্রকাশ করেছেন সোহেল খান। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বন্ধুকে শেষ বিদায় জানিয়ে তিনি তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। কুমোদের ঘনিষ্ঠজনেরা এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেছেন, যাঁরা তাঁর সংস্পর্শে এসেছেন তাঁদের প্রত্যেককে তিনি স্পর্শ করেছিলেন স্বভাবগত উষ্ণতা ও অবিচল মনোবলে।
আরও পড়ুন: আসুন আজ জেনে নেওয়া যাক টলিউডের পাঁচ জন অভিনেত্রীর নামের আসল মানে
বরাবরই জনসমক্ষে আবেগ প্রকাশে সংযত সলমনকে এ ভাবে ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েছে খুব কম ক্ষেত্রেই। ২০২৪ সালে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বাবা সিদ্দিকির আকস্মিক মৃত্যুর পরও একই রকম শোকার্ত অবস্থায় তাঁকে দেখা গিয়েছিল। কুমোদ রানীর প্রয়াণে খান পরিবারে এক বড় শূন্যতা তৈরি হল – এমনটাই বলছেন কাছের মানুষেরা।