দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: ভারতীয় রেলের বহু প্রতীক্ষিত বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের প্রথম প্রোটোটাইপ লঞ্চের সময়সীমা পিছিয়ে গেল। রেল বিকাশ নিগম লিমিটেডের (RVNL) তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ডিসেম্বর মাসে এই নতুন ট্রেনের প্রোটোটাইপ প্রকাশ্যে আসবে। এর আগে জুন মাসেই এই প্রোটোটাইপ রেলের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল।
৬ মাস পিছিয়ে গেল প্রোটোটাইপ লঞ্চ সম্প্রতি কোম্পানির চতুর্থ ত্রৈমাসিকের আয় সংক্রান্ত একটি আলোচনা সভায় আরভিএনএল-এর চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর সেলিম আহমেদ এই ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বন্দে ভারত স্লিপার প্রজেক্টের কাজ পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে, তবে প্রথম প্রোটোটাইপটি রেলওয়ের কাছে হস্তান্তরের জন্য ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় লাগবে। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের জুন মাসেই প্রোটোটাইপ লঞ্চ করা সম্ভব হবে। কিন্তু অনিবার্য কারণবশত সেই সময়সীমা আরও ৬ মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
১৪,৪০০ কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট বন্দে ভারত স্লিপার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে প্রজেক্ট। আরভিএনএল এবং রাশিয়ান সংস্থা টিএমএইচ-এর (TMH) যৌথ উদ্যোগে তৈরি কাইনেট রেলওয়ে সলিউশনস (Kinet Railway Solutions) এই প্রজেক্টের দায়িত্বে রয়েছে। সেলিম আহমেদ জানিয়েছেন, এটি প্রায় ১৪,৪০০ কোটি টাকার একটি বিশাল চুক্তি। এই চুক্তির আওতায় মোট ১২০টি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন সেট তৈরি করা হবে। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে ১৬টি কোচ। সব মিলিয়ে মোট ১,৯২০টি কোচ তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি আগামী ৩৫ বছরের জন্য এই ট্রেনগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও এই সংস্থার হাতেই থাকছে।
আরও পড়ুন: গ্রেটা থুনবার্গের “টুলকিট” নেট মাধ্যমে শেয়ারের অভিযোগে গ্রেপ্তার পরিবেশ কর্মী দিশা রবি
অত্যাধুনিক কোচ এবং যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য রাতের যাত্রাকে আরও আরামদায়ক এবং দ্রুত করার লক্ষ্যেই এই সেমি-হাইস্পিড স্লিপার ট্রেনগুলি ডিজাইন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কাইনেট রেলওয়ে সলিউশনস-এর তৈরি ফার্স্ট এসি কোচের একটি খসড়া নকশা প্রকাশ্যে এসেছে। এই আধুনিক কোচে যাত্রীদের গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি বজায় রাখার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি আপার বার্থে ওঠার জন্য থাকছে সুবিধাজনক সিঁড়ি। এছাড়াও প্রতিটি সিটের সঙ্গে ইনবিল্ট ইউএসবি পোর্ট, ব্যক্তিগত রিডিং লাইট এবং আধুনিক স্টোরেজ ব্যবস্থা থাকছে।
প্রথম প্রোটোটাইপ লঞ্চ হওয়ার পর বেশ কয়েক মাস ধরে তার ট্রায়াল রান চলবে। সমস্ত নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই এই নতুন বন্দে ভারত স্লিপার বাণিজ্যিক ভাবে ট্র্যাকে নামানো হবে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গিয়েছে।