দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: দেশজুড়ে বাড়তে থাকা সাইবার অপরাধের নেটওয়ার্কে বড়সড় আঘাত হানল পুলিশ। আহমেদাবাদে ৩ কোটি ১০ লক্ষ টাকার একটি বিশাল সাইবার প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জন মূল অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা সাধারণ মানুষকে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের নামে এবং ভুয়ো পরিচয় দিয়ে কোটি কোটি টাকা প্রতারণা করত বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই চক্রটি মূলত ডিজিটাল অ্যারেস্ট এবং পার্ট-টাইম চাকরির টোপ দিয়ে ফাঁদ পাতত। আহমেদাবাদের এক বাসিন্দার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আসতেই তদন্তে নামে পুলিশ। এরপরই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হানা দিয়ে এই পাঁচজনকে জালে তোলা হয়।
কীভাবে চলত কোটি কোটি টাকার এই প্রতারণার কারবার? পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, ধৃতরা অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে এই সাইবার অপরাধের নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিল। তারা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভুয়ো বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে আকর্ষিত করত। বিশেষ করে শেয়ার বাজারে কম বিনিয়োগে বিপুল লাভের লোভ দেখিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে ফাঁদ পাতা হতো।
আরও পড়ুন: উত্তরাখণ্ডের নতুন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামি, গত ৪ মাসে এই নিয়ে তৃতীয়বার বদল
একবার কোনও ব্যক্তি এদের জালে পা দিলে, তাঁকে একটি ভুয়ো ট্রেডিং অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করতে বাধ্য করা হতো। সেখানে কৃত্রিমভাবে বিপুল লাভ দেখিয়ে আরও বেশি টাকা বিনিয়োগ করার জন্য চাপ দেওয়া হতো। যখনই ভুক্তভোগী সেই টাকা তুলতে যেতেন, তখনই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার দোহাই দিয়ে আরও টাকা চাওয়া হতো। এভাবেই এক এক জনের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিত এই চক্রটি।
উদ্ধার বিপুল পরিমাণ নথি ও গ্যাজেট, তদন্তে পুলিশ ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন, বিপুল সংখ্যক অ্যাক্টিভেটেড সিম কার্ড, ভুয়ো আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্কের পাসবই উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানতে পেরেছে যে, প্রতারণার টাকা সরাসরি ধৃতদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যেত না। তারা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে একাধিক ভুয়ো বা ‘শেল’ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত, যাতে পুলিশের পক্ষে তাদের ট্র্যাক করা কঠিন হয়।
সাইবার সেলের এক বরিষ্ঠ আধিকারিক জানিয়েছেন, ধৃতদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ইতিমধ্যেই ফ্রিজ করা হয়েছে। এই চক্রের জাল দেশের অন্যান্য রাজ্যে এবং আন্তর্জাতিক স্তরেও বিস্তৃত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের বাকি সদস্যদের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। সাধারণ মানুষকে যে কোনও অচেনা লিঙ্কে ক্লিক না করার এবং বিনিয়োগের আগে সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।