দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। তবে এই প্রকল্পের যোগ্যতার মাপকাঠি আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তুলনায় বেশ কড়া। যাঁরা আয়কর দেন, সরকারি চাকরি করেন বা পেনশন পান, তাঁদের এই প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছে। ১৯ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক এবং রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দারাই এই সুবিধা পাবেন।
নতুন সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী তালিকায় বহু অযোগ্য নাম ছিল। পুনর্যাচাইয়ের সময় প্রায় ৩০ লক্ষ নাম বাতিল করা হয়েছে। তাই নতুন আবেদনকারীদের আধার রেকর্ড, ভোটার তালিকা এবং ব্যাঙ্কের তথ্যের সঙ্গে কড়াভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
কারা আবেদনের যোগ্য আবেদন করার জন্য মূলত চারটি শর্ত রয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীকে মহিলা হতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং বৈধ প্রমাণপত্র থাকতে হবে। তৃতীয়ত, বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। চতুর্থত, তাঁকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। সরকার আগেই জানিয়েছে যে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীরা এই সুবিধা পাবেন না।
আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরের প্রথম লকডাউনে স্তব্ধ বাংলা, পথে পথে পুলিশের কড়া নজরদারি, দেখুন ফটো গ্যালারি
টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতিভিত্তিক কোনও বৈষম্য রাখা হয়নি। সাধারণ ক্যাটাগরি থেকে শুরু করে এসসি, এসটি, ওবিসি বা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া, সকলেই ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের (DBT) মাধ্যমে মাসে সমান ৩,০০০ টাকা পাবেন। টাকা সরাসরি আবেদনকারিণীর নিজস্ব আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে।
কারা বাদ পড়বেন আবেদনকারীদের ফর্ম পূরণের আগে বাদ পড়ার শর্তগুলি ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। এখান থেকেই সবথেকে বেশি আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যাঁরা আয়কর রিটার্ন জমা দেন, তাঁরা এই প্রকল্পের যোগ্য নন। এছাড়া স্থায়ী সরকারি চাকরিজীবী, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার, পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধিবদ্ধ সংস্থা বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বেতন বা পেনশন প্রাপকরাও এই সুবিধা পাবেন না। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী এবং সরকারি পেনশনভোগী অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাও এই তালিকা থেকে বাদ।
আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হল মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত দুয়ারে ত্রাণ কর্মসূচি
আধিকারিকদের মতে, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলিকেই এই বর্ধিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া সরকারের লক্ষ্য।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র পোর্টাল এবং ছাপানো ফর্মে একই ধরনের নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। আবেদন করার আগে আধার কার্ড, আবেদনকারীর নিজের নামে থাকা আধার ও ডিবিটি-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, ভোটার কার্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র তৈরি রাখতে হবে। আধার বা ভোটার কার্ড ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। এছাড়া একটি সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং পরিবারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলে তার তথ্যও জমা দিতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আধার ও ব্যাঙ্কের লিঙ্ক। আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পরেও ব্যাঙ্কের সঙ্গে আধারের সংযুক্তিকরণ ঠিক না থাকলে টাকা ঢুকবে না। তাই আবেদন করার আগে ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে অ্যাকাউন্টের সিডিং স্ট্যাটাস নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বর্তমান সুবিধাভোগীরা কী করবেন যাঁরা আগে থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। তাঁদের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাইগ্রেট এবং পুনর্যাচাই করা হচ্ছে। স্ক্রিনিংয়ে উত্তীর্ণ হলে তাঁরা সরাসরি ৩,০০০ টাকার স্ল্যাবে চলে যাবেন। তবে পুনর্যাচাইয়ে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা পোর্টালে স্ট্যাটাস চেক করে যোগ্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে সংশোধন করে ফের আবেদন করতে পারবেন।
জুন মাসের শুরুতে প্রায় ২৮ লক্ষ মহিলা প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন। সরকার অনুমান করছে যে এই প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি মহিলা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। প্রতি সাত দিন অন্তর তালিকা আপডেট হচ্ছে। তাই যোগ্য মহিলারা দ্রুত ব্যাঙ্কের সমস্যা মিটিয়ে অনলাইনে বা দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে পারেন।