দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) বরাবর ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক জুনিয়র কমিশনড অফিসার (JCO) সহ ৩ জন ভারতীয় সেনা জখম হয়েছেন। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন রাজৌরি সেক্টরের ফরওয়ার্ড পোস্টে রুটিন টহলদারি বা প্যাট্রোলিং চালানোর সময় আচমকাই এই দুর্ঘটনা ঘটে। জখম জওয়ানদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আপাতত তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।
রুটিন পেট্রোলিংয়ের সময় আচমকা বিস্ফোরণ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, রাজৌরির নওশেরা মহকুমার অন্তর্গত ল্যাম সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখার একদম কাছাকাছি সেনা জওয়ানদের একটি দল নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছিল। পাহাড়ি ও জঙ্গল ঘেরা এই দুর্গম এলাকায় ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণকারী লাইনের কাছেই মাটির তলায় পোঁতা ছিল একটি পুরনো অ্যান্টি-পার্সোনেল ল্যান্ডমাইন। সেনা জওয়ানদের অজান্তেই পেট্রোলিং টিমের এক সদস্যের পা সেই মাইনের ওপর পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে এক বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই মারাত্মকভাবে জখম হন তিন জওয়ান, যাঁদের মধ্যে একজন জেসিও পদমর্যাদার সেনা আধিকারিক রয়েছেন। বিস্ফোরণের আওয়াজ পেয়েই নিকটবর্তী ক্যাম্প থেকে অতিরিক্ত সেনা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জখমদের উদ্ধার করার কাজ শুরু হয়।
আরও পড়ুন: ভয়ঙ্কর বায়ু দূষণ উত্তর প্রদেশে, বারাণসীতে মন্দিরের দেব-দেবীর মুখেও লাগানো হল দূষণ প্রতিরোধী মাস্ক
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জখম জওয়ানরা উদ্ধার করার পর ৩ সেনা জওয়ানকে প্রথমে স্থানীয় মিলিটারি ফিল্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য। পরে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজৌরির সেনা হাসপাতালে (Military Hospital Rajouri) স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁদের দেখভাল করছে। উধমপুরের প্রতিরক্ষা জনসংযোগ আধিকারিক (PRO Defence) জানিয়েছেন, জখম জওয়ানদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তাঁদের জীবন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই।
অনুপ্রবেশ রুখতে ল্যান্ডমাইন ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পাকিস্তান সীমান্ত থেকে জঙ্গি অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত পারের অতর্কিত হামলা (BAT Attacks) রুখতে ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে মাটির নিচে অ্যান্টি-পার্সোনেল এবং অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখা হয়। অনেক সময় প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত বা ধসের কারণে এই ল্যান্ডমাইনগুলি নিজেদের স্থান থেকে সামান্য সরে যায়। রুটিন প্যাট্রোলিংয়ের সময় এই ধরনের পুরনো বা স্থানচ্যুত মাইনের ওপর পা পড়ে যাওয়ার কারণে অতীতেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনার পরেই রাজৌরি এবং পুঞ্চের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর টহলদারির ক্ষেত্রে জওয়ানদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় আরও কোনো সক্রিয় ল্যান্ডমাইন বা বিস্ফোরক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে তল্লাশি শুরু করেছে সেনার ইঞ্জিনিয়ারিং উইং।
আরও পড়ুন: রুশ, মার্কিন এবং চিনের পর এবার কি মহাকাশে ভারতের নভোশ্চর?




