দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: লখনউয়ের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাণ হারানো এক তরুণীর শেষ ফোন কলের তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হোটেল ল্যাভেন্ডার অ্যান্ড ইন-এর সেই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন তরুণ-তরুণী, যারা আগুনের গ্রাস থেকে বেরোনোর প্রাণপণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
ঘটনার নেপথ্যে ভয়াবহতা
মঙ্গলবার ভোরবেলা হঠাৎ করেই লখনউয়ের ওই হোটেলে আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন দ্রুত হোটেলের ওপরের তলায় ছড়িয়ে পড়ে। হোটেলটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। দমকল বাহিনীর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, হোটেলের সরু সিঁড়ি এবং ধোঁয়ায় দমবন্ধ করা পরিস্থিতির কারণে বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হতে পারেননি।
‘বাবা আমাকে বাঁচাও’
নিহতদের মধ্যে এক তরুণী তাঁর বাবার কাছে শেষ ফোন কলে আকুতি জানিয়েছিলেন। ফোনে তিনি বলেছিলেন, ‘বাবা আমাকে বাঁচাও, আমি বেরোতে পারছি না।’ চোখের সামনে নিজের সন্তানের এই করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হোটেলের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে শোকপ্রকাশের পাশাপাশি মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
হোটেলের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা
লখনউয়ের ওই হোটেলে কোনো বৈধ অগ্নিসুরক্ষা সনদ ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। হোটেলের মালিক ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার পরই শহরে থাকা একাধিক হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে লখনউ পুলিশ ও দমকল দপ্তর।




