ভোট প্রচারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সরকারি আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন কৃষকদের কাগজপত্র তৈরি রাখতে। যাতে বিজেপি জেতার পরই বাংলার কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ১৮ হাজার টাকা দেওয়া যায়।
তারপর ভোটের ফল বেরিয়েছে। তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। তারপরই ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন বাংলার ৭ লক্ষ কৃষকের অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া হল।
তাহলে কি ভোটের প্রচারে যে বকেয়া ১৮ হাজারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাবড় বিজেপির নেতারা, সেই টাকা আজ পেলেন বাংলার কৃষকরা? কিন্তু দেখা গেল, রাজ্যের ৭ লক্ষ কৃষকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে মাত্র ২ হাজার টাকা। বাকি ১৬ হাজার কোথায় গেল? প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি।
আরও পড়ুন: ২০ মিনিট রাজ্যপালের সঙ্গে কথা অভিষেকদের; ২৪ ঘন্টার মধ্যে কেন্দ্রকে জানানোর আশ্বাস আনন্দ বোসের
মোট তিন কিস্তিতে ২ হাজার টাকা করে ঢুকে যাবে বাংলার কৃষকদের অ্যাকাউন্টে, বলে জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। কিন্তু ১৮ হাজার টাকা কৃষকদের প্রাপ্য হলেও তারা পাচ্ছেন মাত্র ২ হাজার।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দাবি, তাঁরা লড়াই না চালালে এই টাকাও মিলত না। খোলা চিঠি প্রকাশ করে একথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কৃষকদের জন্য রাজ্য সরকারের লড়াই সবসময় জারি থাকবে বলে প্রতিশ্রতি তাঁর। পাশাপাশি চিঠিতে তিনি বাংলার কৃষকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
কেন্দ্রের কথা মত এদিন বাংলার ৭ লক্ষ কৃষকের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা ঢোকার কথা। কেন্দ্রের পিএম কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের ৩ বছরের বকেয়া বাবদ ১৮ হাজার টাকা পাওয়ার কথা বাংলার প্রায় ৪০ লক্ষ কৃষকের। কিন্তু তাঁদের মধ্যে মাত্র ৭ লক্ষ কৃষক প্রথম কিস্তির ২ হাজার টাকা পাচ্ছেন। কোনও বকেয়া পাবেন না তাঁরা।
আরও পড়ুন: রাজ্যের সব স্কুলে বিনামূল্যে দেওয়া হবে হাম ও রুবেলা ভ্যাকসিন, তৎপরতা তুঙ্গে
বাংলার ভোটের সময় প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারবার বলেছিলেন বাংলার কৃষকদের পিএম কিষান প্রকল্পের সুবিধা নিতে দিচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বাংলার কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রথমের চালু করা হবে এই প্রকল্প। এমন কী নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদী বাংলার সরকারি অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছিলেন কাগজপত্রের প্রস্তুতি শেষ করে রাখতে। যাতে বিজেপি বাংলায় জেতার পরই কৃষকদের ১৮ হাজার টাকা দিয়ে দেওয়া যায়।
কিন্তু ২ মে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের সব হিসেব উল্টেপাল্টে গেছে। ক্ষমতা দখল তো দূর অস্ত, বাংলায় বিজেপি ১০০ আসন পেরোতে পারেনি। এদিকে তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে কৃষকদের জন্য পিএম কিষান প্রকল্পের টাকার দাবি করেন মমতা ব্যানার্জি। তারপর শুক্রবার প্রকল্পের টাকা দিতে বাধ্য হল কেন্দ্র, এমনটাই মনে করছে তৃণমূল।
কৃষকদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠিতে মমতা জানিয়েছেন, বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে টাকা দিতে রাজি হচ্ছিল না কেন্দ্র। কৃষক পিছু প্রাপ্য ছিল ১৮ হাজার টাকা। কিন্তু এই ক’টা টাকাও পেতেন না, যদি না আমাদের লড়াই জারি থাকত। প্রাপ্য বকেয়া টাকার দাবিতে লড়াই জারি থাকবে বলে আশ্বাস দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর ট্যুইট করে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বাংলার কৃষকদের অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়ার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পায়নি বাংলা।