বজরংদল, বিশ্বহিন্দু পরিষদকে ধর্মীয় জঙ্গি সংগঠন আখ্যা দিল মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ

বজরংদল ও বিশ্বহিন্দু পরিষদকে ‘ধর্মীয় জঙ্গি সংগঠন’ বলে আখ্যা দিল মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিএইএ (দ্য সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি)। মার্কিন সরকারের এই গুপ্তচর শাখা প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক’এ এই দাবি করা হয়েছে। বিশ্বের নানা দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ভূতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক ইত্যাদি তথ্য নিয়ে প্রতি বছর এই ‘ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক’ নামে এনসাইক্লোপিডিয়াটি প্রকাশ করে থাকে সিআইএ। প্রকাশিত তথ্যে, জম্মু-কাশ্মীরের হুরিয়াত কনফারেন্স’কে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ এবং সংখ্যালঘু সংগঠন জামাত-এ-উলেমায় হিন্দ’কে ‘ধর্মীয় সংগঠন’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। উপরিউক্ত সবকটি সংগঠনকে ‘রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী’র তালিকায় রেখেছে সিআইএ। তাদের মতে, এই সংগঠনগুলি সরাসরি নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ না নিলেও রাজনীতিতে তাঁদের প্রভাব যথেষ্ট। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)’কে ‘জাতীয়তাবাদী সংগঠন’ বলে আখ্যা দিয়েছে সিআইএ।
রিপোর্টটি সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। অবিলম্বে এই তালিকা সংশোধন করা না হলে সিআইএ’এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আন্দোলন শুরু করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভিএইচপি। সিআইএ’র অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করে সংগঠনটির তরফে জানানো হয়েছে, ভিএইচপি দেশের স্বার্থে কাজ করে। পাশাপাশি প্রকাশিত বিবৃতিতে, ওসামা বিন লাদেনের জন্মদাতা যে সিআইএ তা মনে করিয়ে দিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে, ‘জ্ঞান দেওয়ার কোনও নৈতিক অধিকার তাদের নেই।’
গত বছর বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিক তথা সমাজকর্মী গৌরি লঙ্কেশ খুনের ঘটনাতেও নাম উঠে এসেছিল একটি দক্ষিণপন্থী হিন্দু সংগঠনের। ঘটনায় তদন্তকারী স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের তরফে শুক্রবারই দাবি করা হয়েছে, গৌরি লঙ্কেশ খুনের ঘটনায় ধৃত, অন্যতম অভিযুক্ত পরশুরাম ওয়াঘমারে যে ডানপন্থী হিন্দু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত তাদের প্রায় ৬০ জন সদস্য দেশের পাঁচ রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। গৌরি লঙ্কেশ খুনে যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই একই এস্ত্র দিয়ে আরও দুই মুক্তমনা গোবিন্দ পানসারে এবং এমএম কালিবর্গীও খুন হন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

Comments
Loading...