সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। প্রচার যুদ্ধে নেমে পড়ছে তৃণমূল ও বিজেপি। বাংলায় কেন্দ্রের বিজেপি নেতারা এসে যখন ‘গুজরাত মডেল’-এ রাজ্যের উন্নয়ন করার ডাক দিচ্ছেন, তখন গুজরাত মডেল বনাম বাংলার উন্নয়নের তুলনা টানল রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বাংলার সঙ্গে গুজরাতের উন্নয়নের তুলনা টেনে মোদী-শাহের ‘গুজরাত মডেল’কে ব্যর্থ বলে দাবি করলেন। তাঁদের দাবি, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যক্ষেত্র থেকে শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা, যে কোনও প্যারামিটারেই মোদী-রাজ্যের থেকে ঢের এগিয়ে বাংলা।
কী রয়েছে তৃণমূলের তৈরি এই বাংলা মডেল বনাম গুজরাতের মডেলের তুলনামূলক বিচারে?
প্রথমেই রাজ্যের শাসক দল দুই রাজ্যের জিএসডিপি বৃদ্ধির তুলনা করে জানিয়েছে, বাংলার আর্থিক বৃদ্ধি যেখানে ১৫ শতাংশ, সেখানে গুজরাত পিছিয়ে আছে চার শতাংশে। এছাড়া চলতি আর্থিক বছরে মূলধন ব্যয় থেকে শ্রম বাজেট, ১০০ দিনের কাজ থেকে এমএসএমই প্রকল্প, সবেতেই গুজরাতের চেয়ে এগিয়ে বাংলা।
আরও পড়ুন: আবার নিম্নচাপের সম্ভাবনা, চলতি সপ্তাহের শেষে ফের টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস
Here's a look at a 25-point comparative performance study that tells you how Didi’s ‘Real Bengal’ is way better than Modi-Shah’s much-touted failed ‘Gujarat Model’. 👇 pic.twitter.com/4cqnWTRUC2
— Derek O'Brien | ডেরেক ও'ব্রায়েন (@derekobrienmp) January 16, 2021
আরও পড়ুন: করোনা শুনানিতে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির
স্বাস্থ্যক্ষেত্রের যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে তৃণমূল, তাতে দেখা যাচ্ছে নবজাতকের মৃত্যুহার হ্রাস থেকে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বাজেট বৃদ্ধি, হাসপাতালের বেড সংখ্যা বৃদ্ধি থেকে পাঁচ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার কমানো, এখানেও গুজরাতের চেয়ে এগিয়ে বাংলা। পরিসংখ্যানে তৃণমূল দেখিয়েছে শিক্ষাখাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যেখানে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বাজেটে বরাদ্দ করেছে, সেখানে গুজরাতের বরাদ্দ ২৮ হাজার কোটি টাকা। বাংলায় শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেটে খরচ বৃদ্ধি হয়েছে ১৮ শতাংশ, গুজরাতে ১৪ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলে মহিলা শিক্ষার হার এ রাজ্যে যেখানে ৭৩ শতাংশ, বিজেপি শাসিত গুজরাতে তা ৬৮ শতাংশ। বাংলায় স্কুলের সংখ্যা ৯৮ হাজার, গুজরাতে প্রায় অর্ধেক। পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কলেজ রয়েছে ৪৯৪ টি, মোদী রাজ্যে এই সংখ্যা ৩১৩। বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বারবার বাংলাকে নিশানা করেছেন কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্ব। সেখানেও মোদী রাজ্য বহু পিছিয়ে বলে দাবি তৃণমূলের।