দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: বিশ্বের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে মর্যাদাপূর্ণ কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং প্রকাশিত হয়েছে। এই তালিকায় বড়সড় ধাক্কা খেল পশ্চিমবঙ্গের দুই প্রধান ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বৈশ্বিক তালিকায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়েরই অবস্থানের বেশ অবনতি ঘটেছে। তবে রাজ্যের এই হতাশার মধ্যেই দারুণ সুখবর এনেছে আইআইটি খড়্গপুর, আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের অবস্থানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটিয়েছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
অনেকটা পিছিয়ে গেল যাদবপুর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার মান নির্ধারণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডস (QS) ২০২৭ সালের বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকা অনুযায়ী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বৈশ্বিক স্তরে ৭২৪ নম্বরে নেমে গিয়েছে, যা পূর্ববর্তী সংস্করণে ছিল ৬৭৬ নম্বরে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়লেও দেশের সরকারি রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে অবশ্য নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে যাদবপুর।
অন্যদিকে আরও বড় পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে। গতবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে বিশ্বের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ৭৭১ থেকে ৭৮০-র ব্র্যাকেটে ছিল, এবার তা একধাক্কায় নেমে গিয়েছে ৯৪৩ নম্বরে। ভারতের সামগ্রিক তালিকায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ২৩ নম্বর স্থানে রয়েছে, সেখানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ২৬ নম্বর থেকে পিছিয়ে ৩৩ নম্বরে নেমে গিয়েছে।
আরও পড়ুন: ১০ দিনে মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দ্বাদশের ফল ঘোষণার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
রেকর্ড উন্নতি করে বাংলায় শীর্ষে আইআইটি খড়্গপুর রাজ্যের দুই প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অবনতির বিপরীতে অভাবনীয় পারফরম্যান্স দেখিয়েছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT) খড়্গপুর। গত বছরের ২১৫তম স্থান থেকে ১০ ধাপ এগিয়ে এবার বিশ্বে ২০৫তম স্থান অর্জন করেছে এই প্রতিষ্ঠান। স্বভাবতই পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছে আইআইটি খড়্গপুর। জাতীয় স্তরেও শীর্ষ পাঁচে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে মেদিনীপুরের এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা কেন্দ্র।
কেন এই পতন? কী বলছেন শিক্ষাবিদেরা উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত, আন্তর্জাতিক গবেষণার মান, বিদেশি ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকের সংখ্যা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো একাধিক সূচক বিচার করা হয়। রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী উপাচার্য না থাকা, গবেষণার জন্য কেন্দ্রীয় তহবিলের অভাব এবং আন্তর্জাতিককরণের অভাবই এই যৌথ পতনের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গেলে পরিকাঠামো ও গবেষণার মানে বড়সড় রদবদল প্রয়োজন।
জাতীয় স্তরে এবারের কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে আইআইটি দিল্লি (বিশ্বে ১১৮তম)। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইআইটি বোম্বে (বিশ্বে ১৩৪তম) এবং তৃতীয় স্থানে আইআইটি মাদ্রাজ (বিশ্বে ১৭০তম)। সামগ্রিকভাবে ভারতের মোট ৫২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশ্বের সেরা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে, যার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠানই রয়েছে।
আরও পড়ুন: সিভিল সার্ভিসের জন্য প্রস্তুতি নিক বাংলার পড়ুয়ারা; উৎসাহ দিতে কলেজে কলেজে প্রচারের উদ্যোগ রাজ্যের




