সোমবার বিজয় মালিয়াকে দেশে ফেরানোর মামলার শুনানি ওয়েস্ট মিনস্টার কোর্টে, লন্ডনে গেল সিবিআই-ইডির বিশেষ দল

সোমবার ঋণখেলাপী বিজয় মালিয়ার প্রত্যার্পণ মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানির প্রবল সম্ভবনা লন্ডনের ওয়েস্ট মিনস্টার কোর্টে। সে কারণে লিকার ব্যারন বিজয় মালিয়ার দেশে ফেরানো নিশ্চিত করতে ব্রিটেনে পাড়ি দিল সিবিআই-এর যুগ্ম অধিকর্তা এস সাই মনোহরের নেতৃত্বাধীন সিবিআই এবং ইডির যৌথ দল। সিবিআই-এর ডেপুটি ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানাকে কেন্দ্র সরকার ছুটিতে পাঠানোয় তাঁর জায়গায় লন্ডনে গেলেন এস সাই মনোহর।
মনোহর আস্থানার নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্তকারী দলের সদস্য ছিলেন। সিবিআই অধিকর্তা অলোক ভার্মার সঙ্গে তিক্ততার পর আস্থানাকে ছুটিতে পাঠানো হয়। তাই নিয়ে মামলাও চলছে সুপ্রিম কোর্টে। মনোহরের সঙ্গে লন্ডনে গিয়েছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দুই আধিকারিকও। অর্থ তছরুপ ও প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপের মামলা ঝুলছে বিজয় মালিয়ার বিরুদ্ধে। ইডি বিজয় মালিয়াকে ‘ফেরার অর্থনৈতিক প্রতারক’ ঘোষণা করার আবেদন করেছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেই আবেদনে স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা আবেদন করেছিলেন বিজয় মালিয়া। গত ৭ তারিখ সুপ্রিম কোর্ট মালিয়ার আবদনের প্রেক্ষিতে ইডিকে নোটিশ পাঠিয়েছিল। লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে আছেন মালিয়া। তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই-এর লুক আউট নোটিশের ফাঁক গলে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে দেশ ছাড়েন তিনি। তাঁকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন ভারতের তদন্তকারীরা। সম্প্রতি কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জেটলিকে জানিয়েই দেশ ছেড়েছেন মালিয়া।
সোমবার লন্ডনের ওয়েস্ট মিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মালিয়ার প্রত্যার্পণ মামলার শুনানি। আদালতে মালিয়া দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সাম্প্রতিক একটি ট্যুইটে তিনি লিখেছিলেন, তিনি একটা টাকাও নেননি। টাকা নিয়েছিল কিং ফিশার এয়ারলাইনস। ব্যবসা ব্যর্থ হওয়ায় টাকাটা খোয়া যায়। গ্যারান্টার কখনও প্রতারক হতে পারে না। প্রিন্সিপাল অ্যামাউন্টের ১০০ শতাংশই ফেরত দিতে চেয়েছেন তিনি। তা যেন দয়া করে ফেরত নেওয়া হয়। সোমবার বিচারক যদি মালিয়াকে প্রত্যর্পণ না করার আদেশ দেন, তাহলে ভারত সরকারের কাছে ইংল্যান্ডের হাইকোর্টে পাল্টা আবেদন করার জন্য ১৪ দিন সময় হাতে থাকবে।
উল্লেখ্য, মাত্র দু’দিন আগেই দুর্নীতিদমনের উদ্দেশ্যে থেরেসা মে সরকার বিতর্কিত গোল্ডেন ভিসা পদ্ধতি বাতিল করেছে। এই ভিসার অপব্যবহার করে ভারত, চিন এবং রাশিয়ার বিভিন্ন ব্যাঙ্কের ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীরা ব্রিটেনের বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ নিচ্ছিলেন বলে গত কয়েক বছরে বারেবারেই অভিযোগ উঠেছে। বিতর্কিত গোল্ডেন ভিসা পদ্ধতি বাতিল হওয়ায় ভবিষ্যতের বিজয় মালিয়া, নীরব মোদীদের ঠেকানো যাবে, আর সেই কারণেই ব্রিটিশ সরকারের এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

Comments
Loading...