দুর্নীতিগ্রস্ত বিধায়ক, সাংসদরাও ছাড় পাবেন না, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

সরকারি প্রকল্প থেকে কাটমানি নেওয়া নেতারা যেন মানুষের টাকা ফিরিয়ে দেন, দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সম্প্রতি নজরুল মঞ্চে দলীয় কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠকে এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রীর এই বার্তার পরই জেলায় জেলায় দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও করছেন মানুষ।
এবার শুক্রবার তৃণমূল ভবনে নদিয়ার নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে আরও কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানালেন, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কোনও মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ থেকে পুর বা পঞ্চায়েত প্রতিনিধি, কেউ আর ছাড় পাবেন না। প্রয়োজনে লোকায়ুক্ত আইনে জনপ্রতিনিধিদের গ্রেফতার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা। অর্থাৎ, দলীয় ভাবমূর্তির কাছে কোনও নেতা-মন্ত্রীকেই আর ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। নদিয়া পর্যালোচনা বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পরিষ্কার বার্তা, দুর্নীতির সঙ্গে আপোশ করবেন না তিনি। পাশাপাশি, দলীয় প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মমতার অভিযোগ, অনেক জায়গায় পঞ্চায়েত বা পুর দফতরে বসেই পার্টির কাজ ঠিক করা হচ্ছে। তৃণমূল নেত্রীর নির্দেশ, দল ও প্রশাসনকে যেন মিশিয়ে না ফেলা হয়।
লোকসভা ভোটে একেবারেই প্রত্যাশিত ফল হয়নি তৃণমূলের। তার মধ্যে ভোটের ফল বেরতেই দল বেঁধে বিধায়ক, কাউন্সিলরদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার হিড়িক পড়েছে। যা যথেষ্টই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূলের। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে শক্ত হাতে দলের রাশ টানতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রধান। গত সপ্তাহে নজরুল মঞ্চের বৈঠক থেকেই অভিযোগ করেছিলেন, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখা শুরু হলেই তাঁরা পিঠ বাঁচাতে দল বদলাচ্ছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, কেউই ছাড় পাবে না। মানুষের টাকা ফেরত দিতেই হবে অভিযুক্তদের। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, দুর্নীতিগ্রস্তদের আর ঠাঁই হবে না তাঁর দলে। লোকসভা ভোটের ফলের প্রেক্ষিতে প্রত্যেক জেলার বিধায়ক ও শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠক করছেন তৃণমূল নেত্রী। এর আগে হুগলির সিঙ্গুরে হার নিজেদের লজ্জা বলে উল্লেখ করেছিলেন মমতা। আর শুক্রবার নদিয়া জেলার শীর্ষ নেতৃত্বদের নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে মমতার অভিযোগ, বড্ড বেশি আয়েশি হয়ে পড়েছেন নেতারা। মানুষের কাছে রাজ্যের প্রকল্প পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন নেতারা। এছাড়া গোষ্ঠী কোন্দল আর কাটমানি নেওয়ার ফলে মানুষ মুখ ফিরিয়েছেন বলে পর্যালোচনা মুখ্যমন্ত্রীর। যা নদিয়ার তৃণমূল নেতারও স্বীকার করেছেন। ফলস্বরূপ, নদিয়ার ১৪ বিধায়কের মধ্যে ৯ জনই নিজেদের বিধানসভায় দলকে এগিয়ে দিতে পারেনি বলে অভিযোগ মমতার। শুক্রবারের বৈঠক থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর সময়সীমা বেঁধে দেন তৃণমূল নেত্রী। সেই সঙ্গে দুর্নীতি নিয়ে আবারও সাবধান করে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Comments are closed.