প্রথম মোদী সরকারের নোটবন্দির তিন বছর পূর্তি হল শুক্রবার। নোটবন্দির এই তিন বছরে গোটা দেশেরই অর্থনীতির হাল খারাপ হয়েছে। যদিও বিজেপি তা মানতে নারাজ। শুক্রবার সকালেই নোটবন্দি নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়ল মোদী সরকার। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি থেকে শুরু করে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, রাহুল গান্ধী, সকলেই নোটবন্দির সমালোচনা করেন ট্যুইটে।
মমতা লিখেছেন,’সেই দিন অর্থনীতির বিপর্যয় শুরু হয়েছিল, আর আজ দেখুন, দেশের অর্থনীতি কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে।’ কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা তাঁর ট্যুইটে লেখেন, ‘নোটবন্দির পরই দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কেউ কি এর দায় নেবেন?’ ট্যুইটারে রাহুলের মন্তব্য, ‘নোটবন্দির সন্ত্রাসে ভারতের অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে, প্রচুর মানুষের জীবনহানি ঘটেছে। লাখ লাখ ছোট ব্যবসায়ীর ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে, দেশে বেকারত্ব বেড়েছে।’
২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর রাত ৮ টায় আচমকাই দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৫০০ ও ১,০০০ টাকার নোট বাতিলের কথা ঘোষণা করেন বেতার ও দূরদর্শনে। মোদীর দাবি ছিন, কালোটাকা দেশে ফেরানো এবং সন্ত্রাসবাদ ঠেকানোই নোটবন্দির প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু গত তিন বছরে না ফিরেছে কালো টাকা, না ঠেকানো গিয়েছে সন্ত্রাসবাদ। দেশের তাবড় অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নোটবন্দির ফলে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মনমোহন সিং তখনই বলেছিলেন, এর জেরে দেশের জিডিপি কমবে। বাস্তবে সেটাই হয়েছে।
শুক্রবার নোটবন্দি নিয়ে দুটি ট্যুইট করেন মমতা। একটি ট্যুইটে তাঁর দাবি, নোটবন্দি যে অর্থনীতিতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে তা তিনি ওই রাতেই বুঝতে পেরেছিলেন। মোদী সরকারকে খোঁচা দিয়ে মমতা লেখেন, এখন বিশ্ববিখ্যাত অর্থনীতিবিদ থেকে সাধারণ মানুষ, সবাই নোটবন্দির সমালোচনা করছেন। পরের ট্যুইটে মমতার আক্রমণ আরও শানিত। মোদী সরকারকে বিঁধে তিনি লেখেন,তিন বছর আগে এইদিনটি থেকেই শুরু হয়েছিল আর্থিক বিপর্যয়। বর্তমানে দেশের ব্যাঙ্কিং পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক মন্দার জন্য নোটবন্দির সিদ্ধান্তকেই দুষে মমতার মন্তব্য, এই নোটবন্দির ফলে কৃষক, ব্যবসায়ী, ছাত্র থেকে যুব সম্প্রদায় সবাই ভুক্তভুগী।
ট্যুইটারে প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন, নোটবন্দির পরই দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর দায় কে নেবেন? তাঁর ইঙ্গিত মোদীর দিকেই। সন্ত্রাসবাদ রুখতে নোটবন্দি বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে বরাবর দাবি করে এসেছে বিজেপি। রাহুল গান্ধী এই নোটবন্দিকেই সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি লেখেন, নোটবন্দি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাস। এতে ভারতের অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে, প্রচুর মানুষের জীবন চলে গিয়েছে, বহু ছোট ব্যবসায়ী মুখ থুবড়ে পড়েছেন।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা শুরু করেছি সাবস্ক্রিপশন অফার। নিয়মিত আমাদের সমস্ত খবর এসএমএস এবং ই-মেইল এর মাধ্যমে পাওয়ার জন্য দয়া করে সাবস্ক্রাইব করুন। আমরা যে ধরণের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Subscribe