সরকারি হাসপাতালে সাংসদ-বিধায়ক-ভিআইপিদের চিকিৎসায় ভর্তুকি তুলে দেওয়ার ভাবনা, ভিন রাজ্যের চিকিৎসকদের আহ্বান

এমপি হোক বা এমএলএ কিংবা কোনও ভিআইপি, আর্থিক সঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও নিয়ম অনুযায়ীই সরকারি হাসপাতালে তাঁরা বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পান। এবার সেই নিয়মেই বদল আনার ভাবনা রাজ্য সরকারের। সরকারি হাসপাতালগুলোতে এবার বিধায়ক, সাংসদ কিংবা ভিআইপিদের পেয়িং কেবিন ধাঁচে সরকারি চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ভর্তুকিবিহীন চিকিৎসা দিয়ে যা আয় হবে, তার ৭৫ শতাংশ যাবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের উন্নয়ন খাতে, আর সেখান থেকে ২৫ শতাংশ ইনসেনটিভ পাবেন চিকিৎসকরা।

রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। সেই অভাব পূরণে এবার ভিন রাজ্যের চিকিৎসকদের বাংলায় এসে কাজ করার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এসএসকেএমে ‘লেভেল ওয়ান’ ট্রমা কেয়ার সেন্টার উদ্বোধন এবং বিশিষ্ট চিকিৎসকদের সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী এই আহ্বান জানানোর পাশাপাশি হাতুড়ে চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন।

এই মুহূর্তে রাজ্যের প্রায় ৪ হাজার চিকিৎসক প্রয়োজন। কোনও বিভাগেই প্রয়োজনীয় সংখ্যায় চিকিৎসক নেই, তবু চিকিৎসা ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য সবরকম চেষ্টা করছে সরকার, বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া, দুর্ঘটনায় আহতকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ অ্যাপ চালু করার কথা ঘোষণা করেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, অনেক সময় দুর্ঘটনা হলে উত্তেজনা তৈরি হয়, আহতের চিকিৎসা পেতেও দেরি হয়। তাই আহতকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ও পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করতে অ্যাপ চালু হবে।

এসএসকেএমে ট্রমা কেয়ার সেন্টারের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মধ্যে অন্যতম সেরা এই ট্রমা কেয়ার সেন্টার। প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচে তৈরি হওয়া এই ট্রমা সেন্টারে সমস্ত অত্যাধুনিক চিকিৎসার সুবিধা আছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

দেশজুড়ে জল সঙ্কট বাড়ছে। এই অবস্থায় পানীয় জল নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে পথে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসএসকেএমের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, আগামী ১২ ই জুলাই জল বাঁচাও দিবস পালন করবেন তাঁরা। ওই দিন জোড়াসাঁকো থেকে গান্ধী মূর্তির পাদদেশ পর্যন্ত পদযাত্রা করবেন বলে জানান মমতা।

Comments are closed.