দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: বর্ষা আসতেই ট্রেনযাত্রীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। একটু ভারী বৃষ্টি হলেই হাওড়া এবং শিয়ালদহ ডিভিশনের একাধিক রেললাইনে জল জমে ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে ২০২৬ সালের এই বর্ষায় যাত্রীদের সেই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে পূর্ব রেল। রেললাইনের জল জট কাটাতে এবং স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল বজায় রাখতে একটি ‘মেগা অ্যাকশন প্ল্যান’ গ্রহণ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। এই মাস্টারপ্ল্যানের অধীনে দুই ডিভিশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এবং নিচু স্টেশনগুলিতে বসানো হচ্ছে হাই-পাওয়ার পাম্প।
পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারী বৃষ্টির জেরে রেললাইনে জল জমলে তা অত্যন্ত দ্রুত নিষ্কাশন করার জন্য এবার স্বয়ংক্রিয় এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্পের ওপর ভরসা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দুই ডিভিশনের জলমগ্নপ্রবণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়ে গেছে।
হাওড়া ডিভিশনে ব্যাপক প্রস্তুতি এবং পাম্পের সংখ্যা বৃদ্ধি
রেলওয়ে সূত্রের খবর, হাওড়া ডিভিশনের মোট ২৫টি স্টেশন এলাকাকে জল জমার দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওড়া স্টেশন চত্বর, টিকিয়াপাড়া কারশেড, লিলুয়া, বালি এবং বেলুড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রয়েছে, যেখানে জল জমলে পুরো ট্রেন চলাচল ব্যবস্থা থমকে যায়।
পূর্ব রেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই স্টেশনগুলিতে জল নিষ্কাশনের গতি বাড়াতে এবার পাম্পের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। গত বছর যেখানে হাওড়া ডিভিশনে ৪৭টি পাম্প ব্যবহার করা হয়েছিল, এবার তা বাড়িয়ে ৬৪টি করা হয়েছে। এই হাই-পাওয়ার পাম্পগুলি জল জমার সঙ্গে সঙ্গেই তা টেনে নিকটবর্তী ড্রেনে ফেলে দেবে, যার ফলে রেললাইনের পাত দীর্ঘক্ষণ জলের নিচে ডুবে থাকবে না।
শিয়ালদহ ডিভিশনেও কড়া নজরদারি ও ৪৬টি পাম্পের ব্যবস্থা
আরও পড়ুন: বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী
একইভাবে শিয়ালদহ ডিভিশনকেও বর্ষার জল জমার হাত থেকে রক্ষা করতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিয়ালদহ মেইন এবং সাউথ শাখার মোট ২১টি স্টেশনকে এই পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে শিয়ালদহ স্টেশন, দমদম, কাঁকুড়গাছি, বালিগঞ্জ এবং সোনারপুরের মতো ব্যস্ততম রেলওয়ে জংশনগুলি।
রেল জানিয়েছে, শিয়ালদহ ডিভিশনের জলমগ্নপ্রবণ পয়েন্টগুলিতে জল সরাতে মোট ৪৬টি পাম্প মোতায়েন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি রেলের ইঞ্জিনিয়ার ও ট্র্যাক মেইনটেইনারদের নিয়ে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। বর্ষার দিনগুলিতে এই টিম ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাবে। কোথাও সামান্য জল জমার ইঙ্গিত পেলেই স্বয়ংক্রিয় পাম্পগুলি চালু করে দেওয়া হবে।
ড্রেন পরিষ্কার এবং পুরসভাগুলির সঙ্গে যৌথ সমন্বয়
রেললাইনের জল মূলত স্থানীয় পুরসভার মূল নিকাশি নালার মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে যায়। সেই কারণে পূর্ব রেল এবার কলকাতা পুরসভা, হাওড়া পুরসভা এবং বিধাননগর পুরনিগমের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। রেললাইনের পাশের ছোট-বড় ড্রেনগুলি থেকে ইতিমধ্যেই সমস্ত আবর্জনা ও পলি পরিষ্কারের কাজ শেষ করা হয়েছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক জানিয়েছেন, লাইনে জল জমে সিগন্যালিং ব্যবস্থা যাতে বিকল না হয়, তার জন্য এবার বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির এই পাম্পিং সিস্টেমের ফলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হলেও হাওড়া এবং শিয়ালদহ শাখার লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী রেল প্রশাসন।




