দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: এবার মহাকাশে দীর্ঘ সময় কাটানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন আরও এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী। আগামী ১৪ জুলাই আট মাসের দীর্ঘ মিশনে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) পাড়ি দিতে চলেছেন অনিল মেনন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশচারী হিসেবে এটিই হতে চলেছে তাঁর প্রথম মহাকাশযাত্রা।
কবে শুরু হচ্ছে মহাকাশযাত্রা? জানা গিয়েছে, আগামী ১৪ জুলাই কাজাখস্তানের বৈকানুর কসমোড্রোম থেকে রাশিয়ার সয়ুজ এমএস-২৯ (Soyuz MS-29) মহাকাশযানে চেপে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন অনিল। তাঁর সঙ্গে এই মিশনে থাকবেন রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের দুই মহাকাশচারী, পিওতর দুব্রভ এবং আনা কিকিনা। প্রায় আট মাস অর্থাৎ ২৪০ দিন মহাকাশে কাটানোর পর ২০২৭ সালের বসন্তে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন তাঁরা।
চিকিৎসক থেকে মহাকাশচারী অনিল মেননের পেশাগত জীবন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। তিনি একাধারে একজন চিকিৎসক, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং মার্কিন স্পেস ফোর্সের কর্নেল। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিউরোবায়োলজিতে স্নাতক হওয়ার পর স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর এবং মেডিসিনে ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। এরপর মহাকাশ চিকিৎসা এবং জরুরি চিকিৎসায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক।
আরও পড়ুন: Gulf of Oman Attack: ওমান উপকূলে মার্কিন হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু, কড়া প্রতিবাদ ভারতের
মহাকাশে কী কাজ করবেন অনিল? মহাকাশ স্টেশনে থাকাকালীন অনিল মূলত বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অংশ নেবেন। এই কাজগুলি ভবিষ্যতে চাঁদ এবং মঙ্গলে মানুষের যাত্রার প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে। মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা শূন্য মাধ্যাকর্ষণে মহাকাশচারীদের শিরার গঠন, রক্ত প্রবাহ এবং রক্তের গঠনে কী পরিবর্তন হয়, তা নিয়ে গবেষণা করবেন তিনি। পাশাপাশি মহাকাশ স্টেশনের পানীয় জল ব্যবহার করে শিরায় দেওয়ার মতো স্যালাইন বা তরল তৈরির প্রযুক্তিও পরীক্ষা করে দেখবেন এই চিকিৎসক মহাকাশচারী।
নাসা এবং স্পেস এক্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নাসার ২০২১ সালের মহাকাশচারী ব্যাচের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন অনিল মেনন। ২০২৪ সালে তিনি তাঁর দুই বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করেন। মহাকাশচারী হওয়ার আগে তিনি স্পেস এক্সের (SpaceX) প্রথম ফ্লাইট সার্জন হিসেবে কাজ করেছেন। সেখানে তিনি ক্রু ড্রাগন মহাকাশযানের ঐতিহাসিক ডেমো-২ মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়াও নাসার ফ্লাইট সার্জন হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কর্মরত মহাকাশচারীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করেছেন তিনি। তাঁর এই অভিজ্ঞতা দীর্ঘ মহাকাশ যাত্রায় বিশেষভাবে কাজে লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: West Asia Conflict: যুদ্ধ থামাতে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের শান্তি চুক্তির জল্পনা