রবিবার জেএনইউতে যখন মুখ ঢাকা দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালাচ্ছে, মারধর করছে পড়ুয়াদের, তখন পুলিশকে গেটে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন উপাচার্য এম জগদেশ কুমার। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ হল পুলিশের তথ্যানুসন্ধান কমিটির রিপোর্টে।
৫ জানুয়ারি, রবিবার সন্ধে ৬ টা ২৪ মিনিট। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পেরিয়ার হস্টেলে ও সবরমতী ধাবায় তখন পড়ুয়াদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। হোয়াটসঅ্যাপে দিল্লি দক্ষিণপূর্বের ডিসিপি, বসন্ত কুঞ্জ থানার এসিপি এবং এসএইচও-র সঙ্গে জেএনইউ উপাচার্যের বার্তা আদানপ্রদান হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন তাণ্ডব চলছে, পড়ুয়াদের উপর চড়াও হচ্ছে দুষ্কৃতীরা, ক্যাম্পাসে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশের পরিবর্তে পুলিশ কর্তাদের উপচার্য বলেন, ‘গেটের কাছে অপেক্ষা করুন।’
তথ্যানুসন্ধান কমিটির তদন্তে জানা যাচ্ছে, ওই দিন উপাচার্য পুলিশ অফিসারদের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে লেখেন, জেএনইউ-র পরিবর্তিত পরিবেশের কথা ভেবে আপনাদের অনুরোধ করছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে পৌঁছে যান। দিল্লি ওয়েস্টার্ন রেঞ্জের জয়েন্ট পুলিশ কমিশনার শালিনী সিংহের নেতৃত্বাধীন তথ্যানুসন্ধান কমিটির এই রিপোর্ট আগামী কিছু দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পৌঁছে যাবে বলে খবর। এরপর আর পুলিশের সঙ্গে উপাচার্যের কোনও কথা হয়নি। তথ্য বলছে, সন্ধে ৭ টা ৪৫ মিনিটে জেএনইউ-র রেজিস্ট্রার প্রমোদ কুমার একটি চিঠি তুলে দেন পুলিশের হাতে। সেখানে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। তবে রেজিস্ট্রার সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, সেদিন সাড়ে ছ’টা থেকেই ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিল পুলিশ। পরে সরকারিভাবে তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে।
ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে দাবি, পুলিশের তৈরি আর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই মুখ ঢাকা দুষ্কৃতীদের ওইদিন দুপুর আড়াইটের সময় প্রথম জেএনইউ চত্বরে দেখা যায়। সেদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যে ছ’টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৩ বার ফোন করা হয় থানায়।
এদিকে জেএনইউ হামলার প্রতিবাদ, হস্টেলের বর্ধিত ফি পুরোপুরি প্রত্যাহার ও উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে মান্ডি হাউস থেকে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের অফিস পর্যন্ত মিছিল করেন পড়ুয়ারা। তাঁদের পোস্টারে লেখা, ‘ভিসি হঠাও, জেএনইউ’ বাঁচাও। মিছিলে পা মেলান সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআই সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা, সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাত, এলজেডি নেতা শরদ যাদব প্রমুখ।
আরও পড়ুন: উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ড: দোষী সাব্যস্ত বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার, ১৯ ডিসেম্বর হবে সাজা ঘোষণা




