মুম্বই-আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন এবং মুম্বই-ভাদোদরা এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বিরোধিতা করে এবার মহারাষ্ট্রের সমুদ্র তটে লাল জোয়ার উঠল। ৫০ হাজার কৃষক লাল ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে স্লোগান তুললেন, ‘বড়লোকের উন্নয়নে গরিব নিধনকারী মোদী সরকারকে জমি দিচ্ছি না, দেব না’। ঘটনাচক্রে, মহারাষ্ট্রের ঠানে-পালঘরে যে প্রকল্পের বিরোধিতা করে লাল নিশানকে সাক্ষী রেখে পথে নেমেছেন কৃষকরা, সেই জমির পরিমাণ ১০০০ একর। ঠিক যতটা পরিমাণ জমি ন্যানো কারখানা গড়তে টাটার হাতে তুলে দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকার।
গত বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের ঠানে-পালঘর জেলার দাহানুতে সমুদ্রের ধারে জমায়েত হয়েছিলেন জেলার ৬০ টি গ্রামের ৫০ হাজারেরও বেশি কৃষক। নরেন্দ্র মোদীর ‘ড্রিম প্রোজেক্ট’, মুম্বই-আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন এবং মুম্বই-ভাদোদরা এক্সপ্রেসওয়ের জন্য ১০০০ একর জমি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষকদের বক্তব্য, মোদী সরকারের এই উন্নয়ন প্রকল্প আসলে গরিব কৃষকদের পেটের ভাত মারার স্থায়ী বন্দোবস্ত। আশঙ্কা, এর ফলে উচ্ছেদ হতে হবে অন্তত এক লক্ষ কৃষক পরিবারকে, তাদের কী হবে? বৃহস্পতিবার এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেই দাহানুর সমুদ্র তটে বিশাল জনসমাবেশ করে অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভা।
সারা ভারত কিষাণ সভার সভাপতি অশোক ধাওয়ালে thebengalstory কে জানিয়েছেন, দাহানুতে সাগর নাকা থেকে পার নাকা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার লম্বা জমায়েত, ক্ষমতাসীনদের জন্য একটি অ্যালার্ম বেল। ঘুম না ভাঙলে গরিব কৃষকরাই ছুঁড়ে ফেলে দেবে মোদী সরকারকে। অশোক ধাওয়ালের প্রশ্ন, কার জন্য মোদী সরকার এই বুলেট ট্রেন প্রকল্প করতে অত মরিয়া? সেই বুলেট ট্রেনে আম জনতা চড়তে পারবেন তো? গরীব আদিবাসী ও দলিত কৃষকদের বুকের উপর দাঁড়িয়ে এমন জনবিরোধী প্রকল্প মোদী সরকার করছেন একটি সামান্য অংশের মানুষের সুবিধার জন্য, যাদের আমরা সুপার রিচ বলে জানি, বলছেন অশোক ধাওয়ালে। এসবই কেন্দ্রীয় সরকারের সার্বিক বেসরকারিকরণের দিকে আরও একধাপ এগোনো, এভাবেই সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিকে ব্যাখ্যা করছেন কিষাণ সভার সভাপতি।
আরও পড়ুন: বুদ্ধ গয়া বিস্ফোরণ কাণ্ডে অভিযুক্ত জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করল এসটিএফ
বিশাল কৃষক জমায়েতে উল্লেখযোগ্য ছিল মহিলাদের উপস্থিতি। লাল শাড়ি কিংবা লাল পোষাক পরিহিত মহিলারা মোদী সরকারের কতিপয় বড়লোকের জন্য উন্নয়নের এজেন্ডার তীব্র বিরোধিতা করে দাবি তোলেন, উন্নয়ন হোক সকলের। গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মরিয়ম ধাওয়ালের অভিযোগ, কেবলমাত্র হাতে গোনা কয়েকজন সুপার রিচ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, তাই লাখো গরীব আদিবাসী-কৃষকদের বুকের উপর দিয়ে স্টিম রোলার চালিয়ে উন্নয়নের নামে এক ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা করেছেন। সেচের সুব্যবস্থা না করে, পানীয় জলের হাহাকার না রুখে আকাশ কুসুম পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মোদী, বলে অভিযোগ মরিয়ম ধাওয়ালের। মাত্র ১ শতাংশ সুপার রিচদের আরও বড়লোক করতে নরেন্দ্র মোদী দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষকে বলি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন, বলেও আক্রমণ করেন মরিয়ম।
thebengalstory-কে মরিয়ম বলছেন, বাণিজ্যিকভাবে বুলেট ট্রেন প্রকল্প লাভজনক হবে না। তাঁর দাবি, মুম্বই থেকে আমেদাবাদের বিমান ভাড়া দু থেকে আড়াই হাজার টাকা। সেখানে এই মুহূর্তে বুলেট ট্রেন চালু হলে, প্রারম্ভিক ভাড়াই হবে ৩ হাজার টাকা। কে চড়বে বুলেট ট্রেন, প্রশ্ন মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদকের।
সমাবেশ থেকে মোদী-অমিত শাহ বিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি আসন্ন পালঘর জেলায় উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করারও শপথ নেন কৃষকরা। লাল ঝাণ্ডা কাঁধে হাজার হাজার গরিব কৃষকের একটাই বক্তব্য, বাঁচতে হলে, বিজেপিকে হারাতেই হবে।
আরও পড়ুন: দিল্লি ১.১ ডিগ্রি: ঠান্ডায় মৃত্যু আরও এক কৃষকের, দাবি আদায়ে অনড় আন্দোলনকারীরা
