দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরে ফের জাল আধার কার্ড তৈরির চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। বাংলা-বিহার সীমান্ত লাগোয়া সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের শরণপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একজন হরিশ্চন্দ্রপুর থানারই সিভিক ভলান্টিয়ার। তাঁর বাড়িতেই চলত বেআইনি আধার তৈরির কাজ। উদ্ধার হয়েছে আইডি স্ক্যানার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার-সহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
কারা ধরা পড়ল, কীভাবে চলত কারবার
হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম ওমর ফারুক। বাকি দুজন হলেন বিহারের আমদাবাদ থানা এলাকার বাসিন্দা রাজুকুমার শর্মা এবং হরিশ্চন্দ্রপুরের বারোয়ারি এলাকার অঙ্কিতকুমার শর্মা। পুলিশের জেরায় উঠে এসেছে, বিহারের রাজুকুমারের সরকারি আইডি ব্যবহার করে সিভিক ভলান্টিয়ার ওমর ফারুকের বাড়িতে একটি সিএসপি (Customer Service Point) কেন্দ্র খোলা হয়। সেই কেন্দ্র থেকেই সরকারি পোর্টালে লগ ইন করে বেআইনিভাবে আধার কার্ড তৈরি করা হত।
মালদায় সরকারি আধার সেবা কেন্দ্রের অভাবে সাধারণ মানুষ এই ধরনের বেসরকারি সিএসপিতে ভিড় জমান। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই কেন্দ্রগুলিতে নাম সংশোধনে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা, মোবাইল নম্বর পরিবর্তনে ৮০০ টাকা এবং নতুন আধার তৈরিতে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হত।
আরও পড়ুন: সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেবেন বাবুল সুপ্রিয়, শিশির অধিকারীর সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে ফের সরব তৃণমূল
\অনুপ্রবেশকারীদের হাতেও পৌঁছত ভারতীয় আধার
তদন্তে সবচেয়ে উদ্বেগজনক যে তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তা হল এই চক্র শুধু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল তা নয়, মোটা অঙ্কের বিনিময়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের হাতেও পৌঁছে দিচ্ছিল ভারতীয় আধার কার্ড। সীমান্তবর্তী মালদা জেলায় এমন ঘটনা নতুন নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বৈষ্ণবনগর থানা এলাকায় অসমের এক ব্যক্তির আধার লগইন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে জাল আধার তৈরির অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ, সেই ঘটনায়ও ৭০টি জাল কার্ড উদ্ধার হয়েছিল। গত বছর হরিশ্চন্দ্রপুরেরই কুশিদা এলাকায় আরেকটি বেআইনি আধার কেন্দ্রের সন্ধান মিলেছিল।
পুলিশ জানতে পেরেছে, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আধার তৈরির সরকারি আইডি বিক্রি হচ্ছে। বিহার সীমান্তবর্তী এলাকায় জিপিএস লোকেশন কাছাকাছি থাকায় বিহারের চক্র হরিশ্চন্দ্রপুরকে ঘাঁটি হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে তদন্তে প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলেছে।
রাজনৈতিক যোগসূত্রের অভিযোগ, জেলা তৃণমূলের খারিজ
ধৃত ওমর ফারুকের স্ত্রী ফারহানা রহমানি সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য। তাই বেআইনি কেন্দ্র চালানোয় তৃণমূলের মদত থাকার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতা ওমপ্রকাশ ঘোষের দাবি, তৃণমূল নেতাদের ছত্রছায়া না থাকলে এমন কেন্দ্র গজিয়ে উঠত না। তবে জেলা তৃণমূলের নেত্রী চৈতালি সরকার এই অভিযোগ খারিজ করে বলেন, কেউ জড়িত থাকলে দল তাঁকে প্রশ্রয় দেবে না, আইন তার নিজের পথে চলবে।
আরও পড়ুন: রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জের, রবিবার হাওড়া শাখায় একগুচ্ছ ট্রেন বাতিল
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এই চক্র এখন পর্যন্ত কতগুলি আধার তৈরি করেছে এবং সেগুলি কারা ব্যবহার করছে।